নিষোধাজ্ঞা শেষের পথে, কতটা থামলো ইলিশ নিধন!

নিষোধাজ্ঞা শেষের পথে, কতটা থামলো ইলিশ নিধন!

কাঠগড়া থেকে নেমে ডিআইজি মিজান বললেন, ‘খেলা আরও বাকি আছে’
ধর্ষ;ণ-নিপীড়;নের প্রতি;বাদে আজও উত্তাল শাহবাগ
পিয়াজ, চালের পর এবার আলু সি’ন্ডিকেট

নিষোধাজ্ঞা শেষের পথে, কতটা থামলো ইলিশ নিধন!
ইব্রাহীম রনি, চাঁদপুর
প্রকাশিত : ২১:০০, নভেম্বর ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৬, নভেম্বর ০২, ২০২০
চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে ইলিশ শিকারের অভিযোগে আটক কিছু জেলে ও জব্দ করা জাল।

বাধা না পেলে ইলিশ ডিম পাড়তে আসে নদীতে। সাগর থেকে উজানে নদীতে শত শত মাইল ছুটতেও ভালোবাসে। তাই নদীতে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের স্বার্থে প্রতিবছরই দুই বার মাছ শিকার বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। এরমধ্যে অক্টোবর-নভেম্বরের নিষেধাজ্ঞাটা মা ইলিশের নিরাপদে ডিম ছাড়ার স্বার্থে দেওয়া হয়। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় শেষের পথে হলেও প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও থামেনি ইলিশ নিধন। তবে স্থানীয় লোকজন, জেলে ও প্রশাসনের ধারণা, এবার ইলিশ নিধন বন্ধে অভিযান আগের মতোই। খুব সফলও নয়, ব্যর্থও নয়। প্রাসনের চেষ্টা ছিল। তবে লোকবল কম থাকায় অসাধুদের সঙ্গে পেরে উঠেননি তারা। আগামী ৪ নভেম্বর মধ্য রাতে শেষ হচ্ছে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা।

বছরজুড়ে দেখা গেছে, ইলিশের ভরা মৌসুমে এবার মেঘনা-পদ্মা প্রায় খালি ছিল। অন্য বছরগুলোর তুলনায় খুব কম পাওয়া গেছে নদীর ইলিশ। বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মেঘনার প্রবেশ মুখগুলোতে বছরের শুরু থেকেই কারেন্ট জাল পাতা থাকায় ইলিশ খুব বেশি ঢুকতেই পারেনি। এ কারণে এ বছর প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেই বেমিরভাগ ছিল সাগরের। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেমন ইলিশ সাগর থেকে নদীতে ডিম ছাড়তে এসেছে তার ফল মিলবে সামনের দিনগুলোতে। তবে করোনার সময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সড়কে ব্যস্ত থাকায় নদীতে অবাধে চলেছিল জাটকা নিধন। এবারে তাই প্রশাসনের ছিল নদীতে বিশেষ মনোযোগ।

জালসহ গ্রেফতার হওয়া আরও কিছু জেলে

দেখা গেছে,নিষিদ্ধ সময়ে চাঁদপুরের নদীতে ইলিশ শিকারের অপরাধে ২০ দিনে ২০৪ জন জেলেকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৫ মেট্রিক টন ইলিশ, ৬৮১ লাশ মিটার কারেন্ট জাল। পুড়িয়ে দেওয়া হয় কয়েকশ’নৌকা।

স্থানীয়রা জানান, নদীতে ইলিশ নিধন থেকে অসাধু জেলেদের বিরত রাখতে বিমান বাহিনী, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ডসহ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়েছে। তবে এরপরও মা ইলিশ নিধন বন্ধ রাখা যায়নি অনেক জায়গায়। কোথাও কোথাও আবার ইলিশ নিধনে বাধা দিতে গিয়ে হামলা শিকার হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, হাইমচর, সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর, বিষ্ণপুর, তরপুরচন্ডি, আনন্দবাজার, যমুনা রোড, পুরাণবাজার রনাগোয়াল, দোকান ঘর, গুচ্ছগ্রাম, বহরিয়া বাজার, হরিনা ফেরিঘাট ও এখনের হাট এলাকায় অন্যান্য বছরের মতো এবারও মা ইলিশ নিধন করা হয়েছে। এছাড়া মতলব উত্তরের বিভিন্ন স্থানেও মাছ শিকার করেছে অসাধু কিছু জেলে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে না নামা কিছু জেলে নৌকা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মানিক দেওয়ান বলেন, প্রশাসন চেষ্টা করেছে অভিযান সফল করতে। কিন্তু অনেক এলাকাতেই মা ইলিশ নিধন করা হয়েছে। হাইমচর ইউনিয়নে কয়েকশ’ নৌকা প্রতিদিন মাছ নিধন করেছে কিন্তু কেউ বাধা দেয়নি। এছাড়া গাজীপুর, ঈশানবালা, হরিণা, রাজরাজেশ্বরসহ অনেক স্থানেই ইলিশ নিধন হয়েছে। তিনি বলেন, মাছ ধরেছে একশ’ নৌকা তবে ধরা পড়েছে ২টি নৌকা।

তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে অনেক জেলেই ১৫-২৮ কেজি করে চাল পেয়েছে। এখন যেহেতু নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে তাই জেলেরা আবারও নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মাছ পাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, এ পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় ২৪৮টি অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ৬৮৪ লাখ মিটার জাল ও ৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। ৫৯টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আটককৃত ১৬৪ জন জেলেকে কারাদণ্ড এবং ৪০ জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে কিছু জেলের কাছ থেকে জব্দ করা ইলিশ

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান বলেন, কোনও কোনও জায়গায় স্থানীয়রা নিজেই মাছ শিকার বন্ধে উদ্যোগী হয়েছেন-এটি খুবই ভালো। এবার ডাউন অঞ্চলে মাছ কম নিধন হয়েছে। তিনি বলেন, এবারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার ফলে ইলিশে কী ধরনের উন্নতি হবে তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে খুব দ্রুতই এটি করা হবে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, জেলায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ সময়ে বিভিন্ন স্থানে দেড় থেকে দুই হাজার অসাধু জেলে সমস্যা করেছে। সেসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় আমরা অভিযান চালিয়েছি। অভিযানে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। আর জব্দকৃত ইলিশ মাছগুলো বেশিরভাগ তাৎক্ষণিক এতিমখানা ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আর কিছু মাছ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় জব্দ করা ইলিশ বণ্টন করা হচ্ছে পাশের এতিমখানায়

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আমরা যেসব জাল জব্দ করেছি তাতে ডিমওয়ালা ইলিশ খুব একটা দেখা যায়নি। বেশিরভাগই ডিম ছাড়া ইলিশ। এতে করে বুঝা যাচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশ ডিম ছাড়তে পেরেছে।

এদিকে, যারা এই ২০ দিন প্রকাশ্যে নদীতে নামেননি ইতোমধ্যেই সেই জেলেরা তাদের জাল-নৌকাসহ প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামাদি মেরামতের কাজ সেরেছেন। এখন তাদেরও অপেক্ষা নদীতে নামার।

তুলনামূলক নিরাপদ সময় মোটে আর মোটে দুইদিন। মা ইলিশের কি ছাড়া হয়েছে ডিম? কারেন্ট জাল থেকে রক্ষা পাবে তো জাটকা?

COMMENTS

[gs-fb-comments]