রাজা মিয়ার চায়ে মুখরিত বিমানবন্দর এলাকা, প্রতিবন্ধীরা পায় ফ্রি’তে

রাজা মিয়ার চায়ে মুখরিত বিমানবন্দর এলাকা, প্রতিবন্ধীরা পায় ফ্রি’তে

কাতারে ১ম সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন আমির শেখ তামিম
একমাসে ১৭ হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা
সবচেয়ে সস্তা ৫জি ফোন আনল রিয়েলমি

পুরো নাম আজহার উদ্দিন হলেও রাজা নামেই পরিচিত তিনি। নাম নয়, কর্ম দিয়েই যে মানুষের পরিচিতি তার উদাহরণ হতে পারে ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে চা বিক্রেতা রাজা মিয়া।

কেউ কেউ তাকে রাজা মামা বলেও ডাকেন। সেখানে আরো অনেকগুলো চায়ের দোকান থাকলেও রাজা মামার চা একেবারেই আলাদা।

সদা হাস্যোজ্জ্বল বিশাল গোফধারী রাজা মামা চা বিক্রি করেন বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পিছন দিকে গাড়ি পার্কিং এলাকায়। সেখানে থরে থরে সাজানো তামার তৈরি অ্যারাবিয়ান ডিজাইনের কেটলি। কাজুবাদাম, পুদিনা পাতা, তেঁতুল, মাল্টা, লেবু, মরিচসহ হরেক রকমের মশলা বিন্যস্ত বিভিন্ন পাত্রে সাজানো রয়েছে তার ভাসমান চায়ের দোকানে।

প্রায় এক বছর ধরেই ওই স্থানে চা বিক্রি করছেন তিনি। জীবনে চলা পথে অনেক পেশাতে সফল হতে চেষ্টা করেছেন রাজা। তবে ভাগ্যের নিমর্ম পরিহাস পারেননি। ভালো থাকার আশায় একবার বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানেও প্রতারিত হয়েছেন। এরপর অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি এখানে চায়ের দোকান দেন রাজা মিয়া।

প্রথমে রাজা মাল্টা চা, কালোজিরা চা, তেঁতুল চা আর নরমাল দুধ চা প্রতি কাপ বিক্রি করতেন পাঁচ টাকায়। পাশাপাশি আবুধাবিতে শেখা বিভিন্ন দেশের চায়ের রেসিপি দিয়েও কিছু স্পেশাল চা বানাতে থাকেন।

এগুলোর মধ্যে বিশেষত, কাজুবাদামের চা ও ইন্ডিয়ান মাসালা টি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তার কাজুবাদামের চায়ের মধ্যে রয়েছে কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, হরলিকস, ম্যাটকফি, ব্ল্যাক কফি, কিশমিশ, চিনি, গুঁড়া দুধ ও কনডেনসড মিল্ক্ক।

ইন্ডিয়ান মাসালা টি-তে রয়েছে- তেজপাতা, এলাচি, লবঙ্গ, হরলিকস, গুঁড়া দুধ, কনডেনসড মিল্ক্ক ও ম্যাটকফি। আগে এ রকম এক কাপ চায়ের দাম নিতেন ১৫ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

রাজা মামার চায়ের সুখ্যাতি এখন বিমানবন্দর এলাকা ছাড়িয়ে ঢাকা শহরের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। দিনে প্রায় ৫০০ কাপ চা বিক্রি করেন রাজা। ঢাকার বাইরে থেকেও মানুষ ছুটে আসে রাজার রাজকীয় চায়ের স্বাদ নিতে।

সম্প্রতি গাজীপুর থেকে রাজা মিয়ার চায়ের স্বাদ নিতে সপরিবারে এসেছিলেন তানভীর আহমেদ। এক কাপ চায়ে তার মন না ভরায় আরো এক কাপ চা নেন তিনি।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণ চায়ের কাপের চেয়েও বড় বিষয়টি হলো মাটির পাত্রে চা দেয়া হয় এখানে। কাজুবাদামের গন্ধ, চায়ের ঘনত্ব- সব মিলিয়ে অন্য ধরনের চা খেতে।

প্রতিবন্ধীদের জন্য ফ্রি চা- যখন কেউ চা খায়, প্রতিবন্ধীরা চাইয়া থাকে। মনে করে কী-ই না মজা! এই উপলব্ধি থেকেই প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বিনা পয়সায় স্পেশাল চা খাওয়ান রাজা।

COMMENTS

[gs-fb-comments]