মৌসুমী ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে ঠকছে ক্রেতা, বিপাকে বিক্রেতা

মৌসুমী ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে ঠকছে ক্রেতা, বিপাকে বিক্রেতা

১৫ নভেম্বর থেকে ফের ‘রেল পানি’ বিক্রি
আবারো বাড়ল স্বর্ণের দাম
কোল্ডস্টোরেজ-পল্লী বিদ্যুতের ঝামেলায় পচছে ২২ কোটি টাকার আলু

শীতের শুরুতেই মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ঝালকাঠির লেপ তোশক কারিগররা। তাদের নেই দম ফেলার ফুরসত। তবে তুলাসহ উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় লেপ তোশকের দাম এখন চড়া। এর ওপর ভাসমান মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মে বিপাকে স্থানীয় হাট-বাজারের স্থায়ী দোকানদাররা। ওই ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে কম দামে বিক্রি করে বাজার নষ্ট করছেন বলে অভিযোগ দোকানদারদের।

শীতের পোশাকসহ লেপ তোশকের দোকানগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। চাহিদা বাড়তি থাকায় বিক্রিও হচ্ছে ভালো।

ব্যবসায়ীরা জানান, লেপ-তোশকের ব্যবসায়ী ও কারিগরদের আগের তুলনায় এখন ব্যস্ততা কম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ঢুকে পড়েছেন এ অঞ্চলে। তারা প্রতিদিন সকাল হতে না হতেই লেপ তোশক নিয়ে গ্রামগঞ্জে বেরিয়ে পড়েন। মান খারাপ হলেও দাম কম হওয়ায় গ্রামের নারীরা এগুলোই কিনছেন তাদের কাছ থেকে। তাদেরকে নানাভাবে ভুল বুঝিয়ে মানের তুলনায় বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এসব ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান নিতে মালিককে জামানত বাবদ দুই থেকে চার লাখ টাকা দিতে হয়। এছাড়া প্রতিমাসে ঘরভাড়া দিতে হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। বেতন দিয়ে কারিগরও রাখতে হয়।

প্রতি বছরই শীতের অপেক্ষায় থাকেন তারা, কারণ শীতের সময়ে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তবে এবার ভাসমান ব্যবসায়ীদের কারণে পথে বসতে চলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই।

তারা বলেন, ধারদেনা করে কোনো মতে টিকে ছিলাম এতদিন। বেচাবিক্রি কম হওয়ায় আমাদের পথে বসতে হচ্ছে। আমরা এখানকার স্থানীয় এবং স্থায়ী ব্যবসায়ী হওয়ায় ক্রেতাদের নিম্ন মানের তুলা বা কাপড় দিয়ে লেপ তোশক বানিয়ে দিতে পারি না। ভালো কাপড় ও তুলার দাম বেশি হওয়ায় আমাদের লেপ তোশকের দাম ও মান উভয়ই বেশি হয়।

কিন্তু ভাসমান ব্যবসায়ীরা পোশাক কারখানার ঝুটের তুলা এবং নিম্ন মানের কাপড় দিয়ে এই লেপ তোশক বানিয়ে তা বিক্রি করছেন। কিছুদিনের মধ্যেই এ লেপ তোশকের অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে ক্রেতারা ঠিকই দোকানিদের কাছে ফিরে আসবেন।

এসব কারণে বর্তমান অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা।

COMMENTS

[gs-fb-comments]