বিয়ে করেছেন চারবার, তাকে অনেকে বলেন ‘দ্বিতীয় পা’পিয়া’

বিয়ে করেছেন চারবার, তাকে অনেকে বলেন ‘দ্বিতীয় পা’পিয়া’

মাহমুদার ২৫ বছরের স্বপ্ন প্রাইম ব্যাংক থেকে ‘উধাও
কুমিল্লার ২ বোনের ব্যাংক হিসাবে শত শত কোটি টাকা!
হা’রিয়ে যাওয়া মাকে ফেসবুকের মাধ্যমে ১ যুগ পর খুঁজে পেয়েছেন ছেলে

কখনো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বোন বা বন্ধু, কখনো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করে আসছিলেন সিরাজগঞ্জের শাহ’জাদপুরের মে’য়ে হাটে বাজারে স’ন্দেশ বিক্রেতা জেমি পারভিন।

শুধু তাই নয়, দেশের স্বনামধন্য মানুষদের সঙ্গে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করে নিজেকে তাদের কাছের মানুষ বলে জি’ম্মি করতেন প্রশাসনিক কর্মক’র্তাদেরও। আর ফেসবুকে তার নিজস্ব ওয়ালে বিভিন্ন মানুষ স’ম্পর্কে কটূক্তিসহ নানা হু’মকি দিতেন।

ঢাকার তেঁজগাও থা’নার একটি মা’মলায় গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল বিভাগ গ্রে’প্তার করে জেমি পারভিনকে। এরপরই তার নিজ এলাকার ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করে।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের শাহ’জাদপুরের তালগাছি এলাকায় এখনো জেমি পারভিন স’ন্দেশওয়ালার মে’য়ে নবিয়া নামেই পরিচিত। ছোটবেলায় তালগাছি স্কুলে বাবার সঙ্গে স’ন্দেশ বিক্রি করতেন তিনি। কখনো কখনো গানও করতেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নবিয়া হয়ে যান জেমি পারভিন। এখন অনেকেই তাকে ডাকেন দ্বিতীয় পাপিয়া বলে। আর এর মাঝে বিয়ের পিড়িতে বসেন চারবার।

সবশেষ জেমি আস্তানা গাড়েন ঢাকায়। গান নিয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। নিজের চাতুরতায় সখ্যতা

বাড়ান আওয়ামী লীগের অনেক নেতাদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসুবকে আপলোড দিয়ে নিজেই নিজেকে প্রচার করেন আওয়ামী লীগের নারী নেত্রী হিসেবে।

জেমির কথামতো না চললে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো নানা ধরনের মা’মলায়। মিথ্যা ধ’র্ষণ মা’মলাসহ হ’ত্যা চেষ্টা ও অ’পহ’রণের মা’মলা হতো সাধারণ মানুষের বি’রুদ্ধে। পরবর্তীতে মা’মলা নিষ্পত্তির নামে অ’ভিযু’ক্তদের কাছ

থেকে নিতেন বিপুল পরিমান টাকা। আর সেই টাকাতেই ঢাকাসহ উল্লাপাড়া ও শাহ’জাদপুরে গড়ে তুলেছেন অন্তত চারটি বাড়ি। স্বরষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে থা’নার কর্মক’র্তাদের প্রভাবিত করতেন বলেও অ’ভিযোগ স্থানীয়দের।

একই কায়দায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ই’মামের ছে’লে সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) তানভীর ই’মাম স’ম্পর্কে নানা ক;টূক্তি

ও অ;শ্লী;ল ভাষায় ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ত’দন্তে নামে ঢাকার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল বিভাগ। অ’ভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রে’প্তার করা হয়।নিজের মে’য়েকে নিরাপরাধ দাবি করে জেমির মা সোনাভান খাতুন জানান, ঢাকায় তার মে’য়ের কোনো বাড়ি নেই।

এ বিষয়ে শাহ’জাদপুর ইপজে’লা গাড়াদহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইফুল ইস’লাম বলেন, ‘বিগত সময়ে জেমির জন্য বেশ কয়েকটি সালিস বৈঠক স্থানীয়ভাবে হয়েছে। তবে জেমির অধিকাংশ অ’ভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। থা’নায় দায়ের করা মা’মলাগুলো মিথ্যা মা’মলা বলেও প্রমাণিত হয়েছে। তিনি নিজেও এ নিয়ে বির’ক্ত।‘

সিরাজগঞ্জ পু’লিশ সুপার হাসিবুল আলম বলেন, ‘জেমি পারভিনের বিগত সময়ের রেকর্ড যাচাই-বাছাই চলছে। তবে তার বি’রুদ্ধে এখনো কোনো অ’ভিযোগ পাওয়া যায়নি।’ অ’ভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বা’স দিয়ে তিনি জানান, ঢাকা থেকে জেমি পারভীনের বি’রুদ্ধে একটিপত্র এসেছে, যা ত’দন্ত চলছে।

এদিকে জেমির আ’ট’কের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বা’স ফেলেছে শাহ’জাদপুর আর উল্লাপাড়ার নির্যাতিত মানুষ। তার বিচারের

দাবিতে একত্রিত হয়ে নেমেছেন মানববন্ধনে। দ্রুত তার অ’পকর্মের বিচার করে শা’স্তি নিশ্চিত দেখতে চায় ভুক্তভোগীরা।

COMMENTS

[gs-fb-comments]