আজ অত্যন্ত আনন্দের দিন: প্রধানমন্ত্রী

আজ অত্যন্ত আনন্দের দিন: প্রধানমন্ত্রী

বাংলার ‘আচ্ছা’ এখন অক্সফোর্ড ডিকশনারির ইংরেজি শব্দ
পরীক্ষা বাতিল হলেও নির্ধারিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি
পাঁচ কন্যা সন্তান থাকার পর আবারও একসাথে তিন কন্যার জন্ম দিয়ে দুঃশ্চিন্তায় দরিদ্র দম্পতি

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান করতে পারা নিজের সবচেয়ে বড় আনন্দের বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) মুজিববর্ষ উপলক্ষে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

দেশের ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে পাকাঘর হস্তান্তর করেন তিনি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রায় ৯ লাখ মানুষকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। এ মাসে ৭০ হাজারের পাশাপাশি আগামী মাসে আরও ১ লাখ পরিবার বাড়ি পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে আমার অত্যন্ত আনন্দের দিন। গৃহহীন পরিবারকে গৃহ দিতে পারছি, এটি আমার সবচেয়ে আনন্দের। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের কথাই ভাবতেন। আমাদের পরিবারের লোকদের চেয়ে তিনি গরীব অসহায় মানুষদের নিয়ে বেশি ভাবতেন এবং কাজ করেছেন। এই গৃহ প্রদান কার্যক্রম তারই শুরু করা।’

ঘর হস্তান্তরের সময় লাইভে সংযুক্ত ছিল- খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা, চাপাইনবাবগঞ্জ সদর, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি, দেশের সব উপজেলাই অনলাইনে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষ পালন করছে সরকার। বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতির পিতার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীন আট লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে এ তালিকার সবাই এই সুবিধা পাবে।

উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘর তৈরিতে খরচ হচ্ছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট থাকছে। টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এই কাজ করছে। খাসজমিতে গুচ্ছ ভিত্তিতে এসব ঘর তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব ঘরের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘স্বপ্ননীড়’, কোথাও নামকরণ হচ্ছে ‘শতনীড়’, আবার কোথাও ‘মুজিব ভিলেজ’।

সরকারের এই উদ্যোগ বিশ্বের ইতিহাসে নতুন সংযোজন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের বিশাল অর্জন।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘দেশের অনেক এলাকায় এসব ঘর নির্মাণ কার্যক্রম তদারকি করতে গিয়েছি। যারা ঘর পাচ্ছেন তাদের মুখে যে তৃপ্তির ছাপ দেখেছি, তা আর কোনোভাবে পাওয়া সম্ভব না। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছার কারণে।’

নীলফামারী জেলায় ৬৩৭টি পরিবার ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে আছে সদর উপজেলায় ৯৯, সৈয়দপুরে ৩৪, ডোমারে ৩৮, ডিমলায় ১৮৫, জলঢাকায় ১৪১ ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১৪০টি পরিবার। বসতভিটার জন্য উপকারভোগীদের মধ্যে ১২.৭৪ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে খাসজমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৪টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ৩৫টি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাচ্ছে। এর মধ্যে সোনামুখী ইউনিয়নের তিনটি, চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯, মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ১৪, গান্ধাইল ইউনিয়নের পাঁচ ও কাজিপুর সদর ইউনিয়নের চারটি পরিবার রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় আজ ২০টি পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ২০০টি ভূমিহীন পরিবারকে ‘মুজিববর্ষের উপহার’ এই ঘর দেওয়া হবে।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ছয় ইউনিয়নে ৪৩০টি পরিবার ঘর পাচ্ছে। বয়স্কদের ৪৪টি, দিনমজুর ২৩৫টি, মুক্তিযোদ্ধা তিন, বিধবা ৩০, প্রতিবন্ধী ১২, ভিক্ষুক ২৭, ক্ষুদ্রজাতির ৭৮ ও তৃতীয় লিঙ্গের একটি পরিবারকে ঘর দেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ২১টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৫টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ২০০ পরিবার ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নে ৩১টি, জয়মনিরহাটে ৯, আন্ধারিঝাড়ে তিন, পাইকেরছড়ায় ২১, বলদিয়ায় ২৩, চরভূরুঙ্গামারীতে ১৫, শিলখুড়িতে ২৬, পাথরডুবীতে চার, তিলাইয়ে ১৮ ও বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নে ৫০টি ঘর তৈরি করা হয়েছে।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ১০৪টি পরিবার ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৩০টি ঘর প্রস্তুত হয়েছে। আজ এগুলোর চাবি উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আরো ২০টি ঘরের কাজ চলছে।

নাটোরের বড়াইগ্রামে ১৬০টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঘর তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। আজ হস্তান্তর করা হবে।

শরীয়তপুরের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয় উপজেলায় ৬৯৯টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। সদরে ৫০টি, নড়িয়ায় ১২১, জাজিরায় ৫৪, ডামুড্যায় ৬৬, ভেদরগঞ্জে ৩৬০ ও গোসাইরহাট উপজেলায় ৪৮টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। ডামুড্যার পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় বিলের মধ্যে তৈরি হয়েছে দুই সারিতে ২২টি ঘর। সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই।

যশোরের মণিরামপুরে ২৬২টি পরিবার ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে আজ ১৯৯টি ঘর হস্তান্তর করা হবে।

COMMENTS

[gs-fb-comments]