ইভিএমে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে: আওয়ামী লীগ

ইভিএমে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে: আওয়ামী লীগ

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
ম’দ্য’প হয়ে রাতে দুই কুকুর ও ১০ দে’হরক্ষী নিয়ে এলাকায় চ’ক্কর দিতেন ইরফান
কুমিল্লায় সম্ভ্রম র’ক্ষায় চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ল ছাত্রী!

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে ইভিএমে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। কাজেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের এই পদ্ধতিকে আওয়ামী লীগ স্বাগত জানায়।

শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলীয় বক্তব্য তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেন, ভোটররা শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আগে আমরা দেখেছি, জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে বিএনপি-জামায়াত চক্র ছিনিমিনি খেলেছে। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে না, তারা প্রযুক্তির বিপক্ষে কথা বলে। কারণ প্রযুক্তির বিকাশের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের ক্ষমতায়নের পথ সুগম হয়।

নানক আরও বলেন, ‘কেন্দ্র দখল করে, সিল পিটিয়ে একজনের ভোট আরেকজনের দেয়ার সুযোগ ইভিএমে নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার ভোট আমি দেবো, যাকে পছন্দ তাকে দেবো, এই নিয়মে ভোট চলছে। সেভাবেই ভোট হবে।’

তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন চিরাচরিত মিথ্যাচার দিয়ে দিন শুরু করেছেন। তিনি নিজে গোপীবাগ শহীদ শাহজাহান প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। সেই কেন্দ্রে তিনি যখন ভোট দেন, তখন তাদের পোলিং এজেন্ট ছিল না। অথচ তারা বায়বীয় কায়দায় মিথ্যাচার করছে যে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে।

“ভোট শুরু হওয়ার আগেই ইশরাক বলেছিলেন, ‘আহত বা নিহত যা-ই হই, ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করবো না।’ যেখানে নিজেদের পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি, সেখানে আগে থেকেই আহত বা নিহত হওয়ার কথা বলে মাঠ গরম করার মধ্য দিয়ে নির্বাচন বানচাল করার দুরভিসন্ধিমমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছেন।”

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপি ঢাকার বাইরে থেকে সন্ত্রাসী-ক্যাডার বাহিনী এনে ঢাকায় জড়ো করেছে। তারা গণ্ডগোল পাকিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে ফায়দা লোটার ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। জনগণ বারবার বিএনপি-জামায়াত চক্রকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই জনগণের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে।

‌‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে বিদেশি পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি দেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পর্যবেক্ষক নিয়োগ আন্তর্জাতিক বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরিরত বাংলাদেশিদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে মনোনীতি করে কূটনৈতিক মিশনগুলো সঠিক কাজ করেনি,’ বললেন নানক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই নির্বাচনের পূর্বে জরিপ হয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ ধরনের নির্বাচনী জরিপ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করা হয়। জরিপে দেখা গেছে, জরিপে আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই মেয়রপ্রার্থী বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, জরিপের ফল প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। এ ধরনের বিজ্ঞানসম্মত গবেষণালব্ধ ফলে যেহেতু বিএনপির আস্থা নেই, সেহেতু জয়ের বিরুদ্ধে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্লজ্জভাবে মিথ্যাচার করেছেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের গবেষণা ও জরিপের মাধ্যমে নির্বাচন পূর্ববর্তী জনসমর্থনের চিত্র ফুটে ওঠে। জনসমর্থনের প্রতি তোয়াক্কা না করা বিএনপির জন্মগত বৈশিষ্ট্য। বিএনপি আমলে নির্বাচন স্টাইল ছিল, দশটি হোন্ডা, ২০টি গোন্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা। এ ধরনের নির্বাচন একবিংশ শতাব্দিতে সম্ভব নয় বলেই দিকভ্রান্ত ভাঁড়ের মতো প্রলাপ বকছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

COMMENTS

[gs-fb-comments]