সিনহা হত্যায় ৮০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত

সিনহা হত্যায় ৮০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত

নিক্সন চৌধুরীর জামিন শুনানি আজ
দুর্নীতিবাজরা মাটির নিচে থাকলেও তাদের খুঁজে বের করতে হবে: হাইকোর্ট
পরামর্শ দিয়েছি, সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ৬৮ জনের বক্তব্য গ্রহণ করেছে তদন্ত কমিটি। এসব কথা-বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে কমিটির সব সদস্য সর্বসম্মতভাবে প্রায় ৮০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করেছেন। সিনহার মৃত্যুর ঘটনাটি কেন ঘটেছে এবং এই ঘটনায় কারা দায়ী তা প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে।

প্রতিবেদনের সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য করণীয় সম্পর্কে একটি সুপারিশমালাও প্রণয় করা হয়েছে, যা আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা করা হবে।

শনিবার কক্সবাজার হিলডাউন সার্কিট হাউজে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এর মধ্যে দিয়ে তিন দফা সময় বাড়িয়ে ৩৫ দিনের মাথায় তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার কথা জানালেন কমিটিপ্রধান।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কমিটির তদন্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি এই ঘটনায় আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। আইনি প্রক্রিয়ায় ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ হত্যার ঘটনার জন্য কারা দোষী তা আদালতই নির্ধারণ করবেন। দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়ার এখতিয়ারও আদালতের। আমাদের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন মনে করলে বিচার কাজে ব্যবহার করার এখতিয়ার আদালতের আছে।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে মেজর সিনহাকে হত্যার ঘটনায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ, গুলি করার মতো পরিবেশ বা পরিস্থিতি সেখানে তৈরি হয়নি। ঘটনার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যের আচরণ ও ব্যবহার ছিল অমানবিক।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল এসএম সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধি অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক জাকির হোসেন খান ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাং শাজাহান আলি।

গত ২ আগস্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। কার্যক্রম শুরু করে ৩ আগস্ট। সাত কর্মদিবস অর্থাৎ ১০ আগস্ট কমিটিকে প্রতিবেদন জমাদানের সময় বেঁধে দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর প্রথমবার কমিটির সময় বাড়ানো হয় ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। পরে কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবারো সময় বাড়িয়ে দেয়া হয় ৩১ আগস্ট। এ সময়ের মধ্যে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বক্তব্য গ্রহণ করতে না পারায় কমিটির মেয়াদ সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ২ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রদীপ কুমার দাশের বক্তব্য গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘ্টনাটি দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে।দুই বাহিনীর মধ্যে যাতে সম্পর্কের কোনো অবনতি না হয় সে ব্যাপারে সোচ্চার থেকে সরকার নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করে।

COMMENTS

[gs-fb-comments]