ফুলকপির কেজি চার টাকা!

ফুলকপির কেজি চার টাকা!

অবশেষে সেই সবজি ব্যবসায়ীর জমানো ছয় মণ কয়েন জমা নিচ্ছে সোনালী ব্যাংক!
আলুর কেজি ৩০ টাকা!
আবার কমলো স্বর্নের দাম, দেখে নিন সর্বশেষ মূল্য কত

করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলাতে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষকরা এবার চেষ্টা করেছেন তাদের জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের। কিন্তু তার আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না তারা।

ডুমুরিয়ায় শীতের সবজি এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় পানির দরে। এতে হতাশ কৃষকরা। ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে তাদের।

আড়তে এসে হতাশা প্রকাশ করা ছাড়া যেন আর কিছুই করার ছিল না ডুমুরিয়ার মালতিয়া গ্রামের চাষি আব্দুল মজিদের। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন একই উপজেলার আরশনগর গ্রামের সঞ্জয় দেবনাথ। তারা উভয়ই ফুলকপি চাষি।

বুধবার (৯ ডিসেম্বর) মালতিয়া আড়তে তারা প্রতিকেজি ফুলকপি বিক্রি করেছেন চার টাকা কেজি দরে। সবজির রাজ্য ডুমুরিয়ায় এবার ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে।

মার্চে করোনা মহামারি শুরুর পর মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়শ, পেঁপে, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন ফসলে বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখিন হন চাষিরা। শষা প্রতি কেজি বিক্রি করেন ৩-৪ টাকা কেজি দরে। কাঁচা মরিচ ও করল্লা পানির দামে বিক্রি হয়। ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন কৃষকরা।

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী এক ইঞ্চিও জমি খালি না রাখতে নির্দেশনা দেন। চাষে উৎসাহিত হতে খুলনার এক হাজার তিনশ কৃষক প্রণোদনাও পান। কিন্তু তারপরও খুলনা জেলার ৮০ হাজার কৃষক গ্রীষ্ম মৌসুমে সবজি বিক্রি করতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সমিতিতে সুদ ও ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে তাদের।

ডুমুরিয়ার বরাতিয়া, গোবিন্দকাটি, ঠাকুন্দিয়া, খর্নিয়া, আরশনগরে শত-শত বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ হয়েছে। নভেম্বরের প্রথমদিকে চাষিরা প্রতি কেজি ফুলকপি ৮০ টাকা দরে বিক্রি করেন।

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রতি কেজির পাইকারি মূল্য ছিল ৪০ টাকা। কিন্তু বুধবার (০৯ ডিসেম্বর) কৈয়া বাজার, খর্নিয়া ও মালতিয়া আড়তে প্রতি কেজির মূল্য ছিল চার টাকা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বরাতিয়া, চাকুন্দিয়া, রুস্তমপুর, আরশনগর ও মালতিয়ায় ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। গতবারের চেয়ে বেশি জমিতে উৎপাদন হয়েছে।

বরাতিয়া গ্রামের ললিত দাস জানান, এক বিঘা জমিতে ছয় হাজার আর দশ কাঠা জমিতে তিন হাজার ফুলকপির আবাদ করেছেন। বীজ, সার, কীটনাশক ও দৈনিক শ্রমিকের ব্যয়সহ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। অক্টোবরের প্রথমদিকে ফুলকপির চারার গোড়ায় পচন ধরে। আবাদ রক্ষা করতে নানা উপকরণ ব্যবহার করতে হয়।

সবজির আবাদ করতে মহাজনদের কাছ থেকে তিনি পাঁচ টাকা সুদে ঋণ নিয়েছেন। তার জমিতে ফুলকপির বাম্পার ফলনও হয়েছে। আশা ছিল করোনার ধাক্কার লোকসান সামলে নিতে পারবেন। কিন্তু ফল হলো উল্টো। বুধবার সাড়ে চার মণ ফুলকপি বিক্রি করেছেন। কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি।

আরশনগর গ্রামের সঞ্জয় দেবনাথ আশা ও গ্রামীণ সমিতি থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। বুধবার তিনি মালতিয়া বাজারে ১০ মণ ফুলকপি বিক্রি করতে আসেন। প্রতি কেজির মূল্য চার টাকা দেখে হতাশ হন।

COMMENTS

[gs-fb-comments]