অপরিপক্ব ফলে সয়লাব ঝালকাঠির বাজার

অপরিপক্ব ফলে সয়লাব ঝালকাঠির বাজার

করোনা: দেশের অর্থনীতিতে ধসের আশঙ্কা
এক ইলিশের দাম ৪ হাজার টাকা
২০ হাজার টাকায় শুরু করে এখন ৭ লাখ টাকার মালিক

ঝালকাঠিতে মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে ফল আসতে শুরু করেছে। সোমবার (১০ মে) সকালে শহরের কালিবাড়ি রোডস্থ ফল আড়তে এ অবস্থা দেখা যায়।ফল বাজার ঘুরে দেখা যায়, অপরিপক্ব ফলের মধ্যে আম ছাড়াও এসেছে কাঁঠাল, লিচু ও জামরুল।

বাজারে ক্রেতা আইয়ুব আলী বলেন, এবছর ঠিকভাবে ফল খেতে পারছি না। মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে ফল এসেছে। কিন্তু এসব ফলে স্বাদ-গন্ধ কিছুই নেই।

তিনি আরও বলেন, গেল বছরগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সরব উপস্থিতি ছিল বাজারে। গাছ থেকে আম নামানোর সময় বেধে দেয়া হয়েছিল। সেটা এবার করা হয়নি। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।আড়তদার আহমদ বললেন, কাঁঠাল খাইতে চাইলে আরও এক মাস পরে আসতে হবে। আম-লিচু সবই এখনও অপরিপক্ব রয়েছে।

এরপরো এগুলো কেন আনা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আড়তদার। আমরা কিছু আনি না। এখানে এনে দিয়ে যায়। যদি এসব অপরিপক্ব ফল না আসতো তাহলে আমরা বিক্রি করতাম না।

তিনি আরও বলেন, এখন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নেই। তাই আবার অপরিপক্ব ফল ওঠা শুরু হয়েছে। আমগুলো ক্যালশিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাকানো হয়েছে। লিচুগুলো এখনো পরিপূর্ণ হয়নি। আর সফেদায় আরও কিছুদিন পর পরিপূর্ণ স্বাদ আসবে

আড়তদার আহমদ বলেন, অনেক সময় কৃষকরা নিজেই বেশি মুনাফার আশায় অপরিপক্ব ফল নিয়ে আসেন। আবার ব্যবসায়ীরাও কোনো কোনো সময় জোর করে নিয়ে আসেন এসব ফল।

ক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত ২৭ এপ্রিল কালিবাড়ি রোডে বারচালার দক্ষিণ পাশের একটি দোকান থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে আম কিনেছিলাম। কাটতে গিয়ে দেখি আমে কোনো আটি নেই। এমনকি গন্ধও নেই।

এছাড়াও বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে দেখা গেছে, ভ্যানে করে আম বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রেতাদের বেশিরভাগই কালীবাড়ি রোডের ফল বাজার থেকে এসব আম কিনে এনেছেন। আড়তে এসব আম ৭০-৮০ টাকা কেজিতে কিনলেও বিক্রি করা হচ্ছে ১৫০-২৫০ টাকায়।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেন বলেন, রমজান মাসে বিভিন্ন ভেজাল খাদ্য নিয়ে অভিযান চলছে। আমের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তথ্য পেলে অবশ্যই অভিযান চালানো হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কখন কোন অভিযান চালানো হয় প্রতিমাসে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তার একটি গাইডলাইন দেয়া হয়ে থাকে। এবার আম নিয়ে অভিযানের বিষয়ে এখন কোনো গাইড লাইন দেয়নি মন্ত্রণালয়গুলো।

এরপরেও যেসব জেলায় বেশি পরিমাণে আম চাষ হয় সেখানকার জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্দিষ্ট সময়ের আগে যেন আম ছেঁড়া না হয় সেজন্য কাজ করছে বলে জানা যায়।

ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। চাহিদা থাকলে যোগান আসবেই। আমাদের উচিত চাহিদা বন্ধ করা। কোনো যুক্তিতেই এখন পরিপক্ব আম বাজারে আসবে না। বাজারে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

COMMENTS

[gs-fb-comments]