৭৩ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট

৭৩ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট

হঠাৎ বেড়ে গেল আলুর দাম, পকেট খালি ভোক্তাদের
সবজির দামে আগুন
বাগেরহাটে এক ইলিশের দাম ৫৩০০ টাকা !

বসন্ত ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই চাহিদা বাড়ছে ফুলের। ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনের কাছে উপহার হিসেবে ফুলের বিকল্প নেই। তাইতো ভালোবাসা দিবসে দেশের বাজারে ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় ফুলের।

আর দেশের অভ্যন্তরীণ এই ফুলের সিংহভাগের যোগান আসে সাভারের বিরুলিয়া, ফুলের রাজ্য খ্যাত যশোরের গদখালি ও শার্শা এলাকা থেকেই। এজন্যই এই মৌসুম ঘিরে ফুলের ভালো ফলন পেতে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। অধিক লাভের আশায় পহেলা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস গুলোর মতো মৌসুমের অপেক্ষায় প্রহর গোনেন তারা। ফুল ব্যবসায়ীদের কাছে পুরো ফ্রেরুয়ারি মাসটি ব্যবসার উৎসব হিসেবে বিবেচিত। এবার ফেব্রুয়ারি মাসকে ঘিরে এসব এলাকার চাষিদের লক্ষ প্রায় ৭৩ কোটি টাকার ফুল বিক্রির।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির তথ্য মতে, এবার যশোরে পাইকারি পর্যায়ে ৭০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যশোরে প্রায় ছয় হাজার ফুল চাষি দেড় হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফুল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার ভেতর সবচেয়ে বেশি চাষ হয় গ্যালোরিয়াস শতকরা ৪০% চাষ করেন এখানকার ফুল চাষিরা। তার পরই ২০% চাষ হয় রজনীগন্ধা। গোলাপ ১৫% চাষ হয়। তাদের উৎপাদিত জারবেরা, গাঁদা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্র মলি-কাসহ ১১ ধরনের ফুল সারাদেশের মানুষের মন রাঙাচ্ছে।

সরেজমিনে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি, পানিসারা, নাভারণ, নির্বাসখোলা শার্শার উলাশী এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, জমিতে সেচ দেয়া, গোলাপের কুঁড়িতে ক্যাপ পরানো, সার-কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার করাসহ ফুলের আনুসাঙ্গিক পরিচর্যা করছেন চাষিরা।

অন্যদিকে সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর, শ্যামপুর, আক্রান, মোস্তাপাড়া, সাদুল্লাপুর, বাগ্নিবাড়িসহ প্রায় বিশটি গ্রামে চাষ হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। ইউনিয়নের প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে গোলাপ, রজনীগন্ধ্যা, গ্লাডিওলাস ও জারবেরা প্রজাতির ফুল। তবে শুধুমাত্র আড়াই শ হেক্টর জমিতেই চাষ হয় গোলাপ।

এছাড়া বিরুলিয়া, আইঠর ও আকরানসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৮ হেক্টর জমিতে জারবেরা ফুলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। তবে বিদেশি প্রজাতির এই ফুল চাষ ব্যয় বহুল হওয়ায় শুধুমাত্র বড় ফুল ব্যবসায়ীরাই এর চাষ করছেন। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ এই বিভিন্ন প্রজাতির ফুলচাষ পেশার সঙ্গে পুরোপুরি জড়িত। দিবস ঘিরে ফুল বিক্রির এই মৌসুমে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ফুল চাষিরা।

শ্যামপুর এলাকার ফুল চাষি মনির হোসেন ঢাকাটাইমসকে জানান, নিজের তিন বিঘা জমিতে মেরিন্ডা জাতের গোলাপ চাষ করেছেন তিনি। তবে এ বছর শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় ফুলের প্রডাকশন কিছুটা কম হয়েছে। এখন প্রতিটি ফুল ৮-১০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। কিছু দিন আগেও ৩-৫ টাকা দরে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি করেছেন এখানকার চাষিরা।

তিনি আরও বলেন, তবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসসহ অন্যান্য দিবস গুলোর দিন যত ঘনিয়ে আসছে বাজারে ফুলের চাহিদা বাড়ছে। সাথে বাড়ছে ফুলের বাজার মূল্য। ভালোবাসা দিবসে প্রতিটি ফুল পাইকারি ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি করবেন বলেও আশাবাদী তিনি।

বিরুলিয়ার আইঠর গ্রামের ফুল চাষী আশরাফ মিয়া ও নাছির উদ্দিন জানান, ৭-৮ বছর আগে যৌথ প্রচেষ্টায় ভারত থেকে বিদেশি জারবেরা ফুলের চারা এনে বাগান করেছেন তিনি। এর কয়েক বছর পর ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়ায় তারা জারবেরা ফুল চাষে জমির পরিমাণ বাড়িয়েছেন।

বিরুলিয়া ফুল চাষি সমিতির আহ্বায়ক মুহাম্মদ নাসির জানান, বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে তাদের এখানকার ফুলের বাজার জমে উঠেছে। প্রতিদিন বিরুলিয়ার স্থানীয় বাজার গুলোতে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার ফুল বিক্রি হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে ফুল সংরক্ষণ ও তা রপ্তানি করা এখানকার চাষিরা অধিক লাভবান হতো বলেও জানান তিনি।

সাভার উপজেলা কৃষি অফিসার নাজিয়াত আহমেদ বলেন, এখানকার লাল মাটি ফুল চাষের জন্য উপযোগী হওয়া ব্যাপক হারে ফুল উৎপাদন হয়ে থাকে। তাই চারা রোপন, বাগান পরিচর্যা ও কীটনাশক প্রয়োগসহ যাবতীয় বিষয়ে আমরা চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা করেন তারা।

তিনি আরও বলেন, সাভারে ফুল চাষকে কেন্দ্র করে বছরে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ২৫-৩০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়ে থাকে। আর এই মৌসুমেই কেবল প্রায় ৩ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা উপজেলারসহ এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে। ১৯৮৩ সালে গদখালীতে মাত্র ৩০ শতক জমিতে ফুল চাষ শুরু হয়। এখন চাষ হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। দেশে ফুলের মোট চাহিদার ৭০ ভাগই যশোরের গদখালী ও শার্শা থেকে সরবরাহ করা হয়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে এই ফুল এখন যাচ্ছে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াতেও।

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা এই চাষ বা ফুলকে কেন্দ্র করে। প্রায় ২০ হাজার কৃষক ফুলচাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে কেবল যশোরেই প্রায় ৬ হাজার ফুলচাষি রয়েছেন।

COMMENTS

[gs-fb-comments]