ড্রাগন ফল চাষে আলমগীরের সাফল্য

ড্রাগন ফল চাষে আলমগীরের সাফল্য

দাম কেন বাড়ে জানেন না ব্যবসায়ীরা
পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ভারত
বন্যায় সিরাজগঞ্জে কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতি ২৩ কোটি টাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড় পুর ইউনিয়নের খাটিঙ্গা গ্রামের প্রথম ড্রাগন ফল চাষি আলমগীর। স্থানীয়দের কাছে তিনি ড্রাগন ফল চাষি হিসেবেই পরিচিত। মাত্র এক বছরে আলমগীর এ ফল চাষে সফলতা লাভ করেন।

আলমগীর বলেন, ‘আমি প্রবাস ফেরত। বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধান চাষ করা। আমার তাতে আগ্রহ নেই। একদিন কথা হয় কৃষি মাঠ উপ-সহকারী কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি আমাকে ড্রাগন চাষের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। তার পরামর্শে ১ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ শুরু করি। তার দিয়ে বেড়া, সিমেন্টের খুঁটি বানানো, গেইট করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ এ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু চারা লাগানোর এক বছরের মধ্যে ফল বিক্রি করতে পারব, তা আগে ভাবিনি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড় পুর ইউনিয়নের খাটিঙ্গা গ্রামের প্রথম ড্রাগন ফল চাষি আলমগীর। স্থানীয়দের কাছে তিনি ড্রাগন ফল চাষি হিসেবেই পরিচিত। মাত্র এক বছরে আলমগীর এ ফল চাষে সফলতা লাভ করেন।

আলমগীর বলেন, ‘আমি প্রবাস ফেরত। বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধান চাষ করা। আমার তাতে আগ্রহ নেই। একদিন কথা হয় কৃষি মাঠ উপ-সহকারী কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি আমাকে ড্রাগন চাষের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। তার পরামর্শে ১ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ শুরু করি। তার দিয়ে বেড়া, সিমেন্টের খুঁটি বানানো, গেইট করা, নিরা;পত্তা নিশ্চিত করাসহ এ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু চারা লাগানোর এক বছরের মধ্যে ফল বিক্রি করতে পারব, তা আগে ভাবিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাগানে শুধু মাত্র পিংক জাতের বা বারি ১ জাতের ড্রাগ;নের চারা রোপণ করেছিলাম। প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে ফল বিক্রিতে আমি এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছি। আমি অত্য;ন্ত খুশি। আশাকরি, সামনে আরো বেশি জায়গায় এর আবাদ করব। বাগানের বয়স প্রায় এক বছর। আট মাসে ফুল এবং ৪৫ দিন হতে ফল বিক্রি শুরু করেছে। প্রথম বছরে ফলও আসে বেশ। ফল দেখতে ও কিনতে ভিড় জমান এলাকাসহ দূর-দুরান্তের লোকজন।’

আলমগীর জানান, ড্রাগনের গাছ সোজা রাখার জন্য জমিতে পিলার স্থাপন করা হয়। জমিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ দুরত্ব বজায় রেখে জমিজুড়ে পিলার স্থাপন করে প্রত্যেক পিলারের মাথায় একটি করে পরিত্যক্ত ইজিবাইকের ট্রায়ার বেঁধে দেয়া হয়। পিলারের পাশে ড্রাগন চারা রোপণ করা হয়। বাগানে ক্যাকটাস গাছের মতো দেখতে ড্রাগনের গাছগুলো বেড়ে ইতোমধ্যে সিমেন্টের খুটির মাথায় ছুঁই ছুঁই করছে। ড্রা;গন চাাষের জন্য আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে ইতোমধ্যে ড্রাগনের চারাগুলো বেশ পরিপক্কও হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে কৃষি উপ-সহকারী মাঠ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘এই এলাকার মাটি এবং আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আমরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পক্ষ থেকে সর্বদা বাগানটি পরিদর্শন করে চাষিকে উপযুক্ত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খিজির হোসেন প্রামানিক বলেন, ‘কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ থেকে শুরু করে যাবতীয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও চারা, সার, কীটনাশক কিছু দিয়ে তাদের উৎসাহিত করে থাকি।’

তিনি জানান, ড্রাগনের চারটি জাত রয়েছে। এগুলো হলো– হলুদ, সাদা, গোলাপী, ও পিংক। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট হতে উদ্ভাবিত বারী ১- যা পিংক হিসেবে পরিচিত। এ পিংক জাতের ড্রাগন ফল দেখতে সুন্দর খেতেও সুস্বাদু । একবার গাছের চাড়া লাগালে বছরে ৮ মাস ফল হার্বেস্ট করা যায়। একটি গাছ থেকে ১ মণ ফল আহরণ সম্ভব এবং ২০ বছর যাবৎ ফল আহরণ করা যায়। তবে, শীতকালে প্রচণ্ড শীতে ফল উৎপাদনে ব্যাহত হতে পারে তাই গাছের উপর লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা দরকার।

তিনি আরও জানান, আলমগীরের এই সাফল্য এলাকার অন্যসব কৃষকদেরও অনুপ্রাণিত করবে। স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নিজ উপজেলায় ড্রাগন চাষের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে অন্যান্য অবদান রাখার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক আলমগীর।

COMMENTS

[gs-fb-comments]