ঢাকায় এসেছেন ‘থ্রি ইডিয়টস’র ফুংসুখ ওয়াংড়ু

ঢাকায় এসেছেন ‘থ্রি ইডিয়টস’র ফুংসুখ ওয়াংড়ু

পরিচালককে বিয়ে করছেন আনুশকা
কঙ্গনার প্রশংসায় ‘পাঙ্গা’র ট্রেনার
জনপ্রিয় অভিনেত্রী গয়না বিক্রি করে সংসার চালান এখন

বলিউডের আমির খান অভিনীত জনপ্রিয় ছবি ‘থ্রি ইডিয়টস’। ছবির প্রধান চরিত্রে ছিলেন আমির খান। যেখানে তার নাম ছিল ‘র‌্যাঞ্চোরদাস শ্যামলদাস চ্যাঞ্চোড়’। ছবির শেষে জানা যায় আমির খানের আসল নাম ফুংসুখ ওয়াংড়ু।

তবে ফুংসুখ ওয়াংড়ু চরিত্রটি নেয়া হয়েছিল সোনম ওয়াংচুক নামের এক শিক্ষা সংস্কারকের জীবন থেকে। তিনি আজ শুক্রবার ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের করণীয়’ বিষয়ের ওপর বক্তৃতা দেবেন।

শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় চিত্রশালার চতুর্থ তলায় পঞ্চমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ঢাকা আর্ট সামিটের। এই অনুষ্ঠানের প্রথম দিন আজ।

অনুষ্ঠানে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে থাকবেন আগা খান পুরস্কারজয়ী স্থপতি সাইফুল হক, স্থাপত্যকলা তাত্ত্বিক হুরারিয়া জাবিন ও স্থপতি নীনা পেইম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন নকশাকার প্রেম কৃষ্ণমূর্তি।

তিব্বতে ১৯৬৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থ্রি ইডিয়টস সিনেমার শেষ দৃশ্যের সেই গাঢ় নীল হ্রদটির কাছেই জন্মেছিলেন সোনম, লেহ জেলার উলেটোকপো গ্রামে।

যৌবনে পৌঁছেই হতাশ হয়ে দেখলেন নিজ প্রদেশে শিক্ষার অধোগতি। দশম শ্রেণির মেট্রিক পরীক্ষায় প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করছে। এরা ঝরে যাচ্ছে। ফলে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় পাসের হার তো দূরের কথা, অংশগ্রহণের হারই প্রায় শূন্যের কোঠায়।

তিনি ভাবলেন, আসলে শিক্ষার্থীরা নয়, ফেল করছে এখানকার অসামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা। ফেল করছে তিব্বতীয়দের স্বাতন্ত্র অস্বীকার করে তাদের জোরপূর্বক হিন্দিতে শিক্ষা ‘গেলানো’। বর্তমানে চোস্ত হিন্দিতে কথা বললেও শিক্ষাজীবনে সোনমও এই ভিনদেশি ভাষা শিখতে যথেষ্ট বেগ পেয়েছেন।

১৯৮৮ সালের দিকে তিনি ভাবলেন, লাদাখের একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নয়, বরং একটি পরিবর্তিত আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি খুব দরকার। এ লক্ষ্যে তিনি সেকমল অল্টারনেটিভ স্কুল নামে একটি বিদ্যালয় খুলেন।

১৯৯৬ সালে লাদাখের পাসের হার ৫ শতাংশ থেকে ২০০৯ সালে গিয়ে ঠেকল ৭৫ শতাংশে। সোনমের এই বিদ্যালয়টিতে ভর্তির জন্য মেট্রিকে ফেল করতে হবে। আর পাস হয়েও যদি আবেদন করেন, তবে থাকবে ওয়েটিং লিস্টে। বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো মাটির তৈরি। লাদাখের যে এলাকায় বিদ্যালয়টি অবস্থিত, সেখানে বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি কোনো পরিষেবা নেই।

তাই জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে সৌরশক্তিতে নির্ভরশীল একটি ক্যাম্পাস বানিয়েছেন। প্রযুক্তির কারিকুরিতে মাইনাস ১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে মাইনাস ২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপেও ১৫-২০ ডিগ্রি থাকে সে ক্যাম্পাসের অন্দরমহল। ফ্রান্সের আর্থ আর্কিটেকচার সম্মেলনে ২০১৬ সালে সেরা স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক টেরা অ্যাওয়ার্ড জিতেছে সেকমল স্কুল।

লাদাখের শিক্ষামন্ত্রী সেওয়াং রিগজিং (২৭), দেশ-বিদেশে পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা স্তানজিন দোরজাই ও অল উইমেন্স ট্রাভেল কোর প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা ও ভারতে নারীদের সর্বোচ্চ বেসামরিক ‘নারী শক্তি’ পুরস্কারপ্রাপ্ত থিনলাস কোরোল এই সেকমলেরই শিক্ষার্থী। এরা ৩-৫ বার করে মেট্রিক ফেল করেছিলেন।

বরফ ব্যবহার করে স্কুলের পাশেই বানানো হয়েছে আইস হকি মাঠ। লাদাখে ৬ দশক ধরে কেবল ছেলেরাই খেলত আইস হকি। সেকমল স্কুলের আইস-টার্ফে মেয়েরাও শুরু করল এরপর।

জাতীয় পর্যায়ে মেয়েদের স্কুল টিম চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। এমনকি ২০১৬ সালে এখানকার দলটিই ভারতের জাতীয় মহিলা দল হিসেবে তাইওয়ানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান চ্যালেঞ্জ কাপে অংশ নেয়। ২০২১ সালের মধ্যে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের খেতাব অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে সোনমের বিদ্যালয়।

শুধু এসব নয়। লাদাখের সর্বপ্রথম প্রিন্ট ম্যাগাজিন ‘লাদাগস মেলং’ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ অবধি। ২০০১ সোনম সালে যোগ দেন জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের লাদাখ পার্বত্য এলাকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

২০০৪ সালে লাদাখের শিক্ষা ও পর্যটনের লক্ষ্যমাত্রার ওপর তিনি প্রণয়ন করেন ‘লাদাখ ২০২৫’ রূপরেখা। অসাধারণ এ কর্মপরিকল্পনার পুরষ্কার আসে ভারতের কেন্দ্র সরকার থেকেও। জনশক্তি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা সম্বন্ধীয় জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে যোগ দেন সোনম।

২০০৭-২০১০ অবধি নেপালেও শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করেছেন একটি ড্যানিশ এনজিওর কর্মী হিসেবে। ২০০৮ সালে সোনম সিএনএন-আইবিএন কর্তৃক ‘রিয়েল হিরোজ অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হন। সোনম ওয়াংচুক জিতেছেন এশিয়ার নোবেল খ্যাত র‌্যামন ম্যাগসেসাই পুরস্কার।

COMMENTS

[gs-fb-comments]