ব্যর্থ হিরো আলম, ৫ থেকে ৭ জন করে দর্শক

ব্যর্থ হিরো আলম, ৫ থেকে ৭ জন করে দর্শক

ছেলেকে এতিমখানায় বড় করছেন ইলিয়াস কাঞ্চনের নায়িকা বনশ্রী
আমির খানের মেয়ের ইনস্টাগ্রামের ছবি ভাইরাল
পুজোয় হবু বর অঙ্কুশের জন্য কী কিনলে ঐন্দ্রিলা সেন?

বগুড়ার আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলম। যার পরিচিতি পুঁজি করে তাকে নিয়ে এফডিসি কেন্দ্রীক একাধিক নির্মাতা সিনেমা নির্মাণে উদ্যোগী হন। যার ফলশ্রুতিতেই সাহস করে এবার নিজস্ব প্রযোজনায় সিনেমা করলেন আলম।

ছবির নামও ‘সাহসী হিরো আলম’। করোনার কারণে সাত মাস বন্ধ থাকার পর গেল শুক্রবার দেশের ৬৬টি প্রেক্ষাগৃহ চালু হয়। যারমধ্যে অন্তত ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘সাহসী হিরো আলম’। এমন মহাসমারোহে যে ছবি মুক্তি, প্রেক্ষাগৃহে তা কেমন চলছে? মানুষ দেখছে তো?

রাজধানীসহ ঢাকার বাইরের বেশ কয়েকটি সিনেমা হলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুক্তির পর মুখ থুবড়ে পড়েছে ‘সাহসী হিরো আলম’। এর জন্য ছবির মানহীনতাকেই দায়ি করছেন হল কর্তৃপক্ষ। তাহলে এমন ছবি জেনেশুনে কেন মুক্তি দিল

হল কর্তৃপক্ষ? এমন প্রশ্নে অনেকেই বলেছেন, হিরো আলমের ফেসবুক-ইউটিউবে লাখ লাখ ভিউ হয়। হল কর্তৃপক্ষ ভেবেছিলো, অনলাইনে আলমের ভক্তদের পঞ্চাশ ভাগও যদি সিনেমা হলে আসেন, তাহলে ছবি হিট! কিন্তু সিনেমা মুক্তির চারদিন পর দেখা গেল ভিন্নচিত্র!

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ‘সাহসী হিরো আলম’ নামের এ ছবি প্রদর্শন করে হতাশ হয়েছেন বলে জানান। শামসুদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, শুক্রবার থেকে সোমবার, এই ৪ দিনে হিরো

আলমের ছবির সেল হয়েছে মাত্র ৬ হাজার টাকা। এখান থেকে ফিফটি-ফিফটি শেয়ার মানি রয়েছে। পাশেই ছন্দ সিনেমা হলে চলছে শাকিব খানের ছবি ‘রাজধানীর রাজা’। শাকিব খানের ১৩ বছর আগের ছবি ৪দিনে ২০ হাজার টাকার বেশি

সেল হয়েছে। কিন্তু ফেসবুক ইউটিউব গরম করা আলম চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। আলমের ভিডিওতে যত ভিউ

হয় তার কানাকড়ি দর্শকও হলে যায়নি। ১২০০ আসনের সিনেমা হলে শো প্রতি ৫ থেকে ৭ জন করে দর্শক পেয়েছি। এ থেকে তার শিক্ষা নেয়া উচিত।

তিনি বলেন, সেল এতো খারাপ যে হলের নিয়মিত কর্মচারীর বেতন, হলের বিদ্যুৎ-পানির বিল দেয়া সম্ভব হবে না। হিরো আলমের এ ছবি নেয়া চরমভাবে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এর চেয়ে বাজে ছবি আর হতে পারে না। করোনার মধ্যেও মানুষ টাকা

সময় ব্যয় করে ছবি দেখতে এসে কিছুক্ষণ হল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাহলে ছবির অবস্থা কত খারাপ বলার অপেক্ষা রাখে না।

তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা বিধি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ছবি চালাচ্ছি, কিন্তু ছবি ভালো না হওয়ায় দর্শক দেখছে না। ১১৭০ সিটের মধ্যে অর্ধেকের চেয়ে কম টিকেট বিক্রি হলেও তো খুশি হতাম। তাতো হচ্ছেই না, বরং সাগরের মধ্যে একটা পাতা ফেলার মতো অবস্থা।

‘সমাজ, সংস্কৃতি, দর্শকদের জীবনবোধের সঙ্গে মিল নেই এমন ছবি দর্শক কোনোভাবেই গ্রহণ করে না তার বড় প্রমাণ হিরো আলমের এই ছবি। আলমের মতো সবাই নায়ক হতে চায়। কিন্তু আদৌ নায়ক হওয়ার যোগ্যতা আছে কিনা হাজারবার ভেবে মাঠে নামা উচিত। শিল্পীরা সাধারণ মানুষদের কাছে একপ্রকার অ্যাম্বাসেডর। ইংরেজিতে ডাবিং বা

সাবটাইটেল করে ‘সাহসী হিরো আলম’ যদি পশ্চিমা বিশ্বে মুক্তি দেয়া হয় তাহলে তারা মনে করবে বাংলাদেশের নায়ক বা

কালচার এমন! খুব লজ্জাজনক বিষয় এটি! এই ধরনের ছবি আগামিতে যদি মুক্তি দেয়া হয় তাহলে আমাদের সিনেমাগুলো জাতীয় যাদুঘরে জায়গা পাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সিনেমা হল সম্পর্কে জানতে যাদুঘরে যেতে হবে। নির্মাতা ও

প্রযোজকদের এখনও সচেতন হওয়া উচিত। সেন্সরবোর্ডে যারা আছেন তাদের কাছে অনু্রোধ আপনারা আরও জেনেবুঝে ছবিগুলো সেন্সর ছাড়পত্র দিবেন।’

আনন্দ সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক বলেন, সাতমাস পর সিনেমা হল খোলার পর মনে হয়েছে বন্ধ থাকাই ভালো ছিল। কারণ, হলের দৈনিক খরচ উঠছে না। যেকজন মানুষ আসছেন, ছবি শুরুর কিছুক্ষণ পর বিরক্ত হয়ে চলে যাচ্ছেন।

আমাদের এখানে কিছু করার নেই। নতুন মানসম্মত ছবি চেয়েও আমরা পাইনা। পরের শো থেকে যদি নতুন ছবি পাই

তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হিরো আলমের এই ছবি হল থেকে নামিয়ে দেব। বাধ্য হয়েই এ সপ্তাহটা এই বিষফোড়া বয়ে বেড়াতে হবে। ওদিকে নির্বাহি মেজিসট্রেট এসেছিলেন হলের অনেক বকেয়া রয়েছে। পরিশোধের জন্য সময় চেয়েছি। ব্যবসা না হলে দিব কীভাবে?

এদিকে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে শুধুমাত্র সিনেমা প্যালেস হলটি খুলেছে শুক্রবার। সেখানে চলছে ‘সাহসী হিরো আলম’। স্থানীয় প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সিনেমা প্যালেসের কর্ণধার আবুল হোসেন বলেন, ‘ এ ছবির গল্পের কোনো

আগামাথা নেই। অবান্তর, আজগুবি দৃশ্যে ভরপুর। প্রধান চরিত্রে যারা অভিনয় করেছে, তারা অভিনয়ের ‘অ’ জানে কিনা সন্দেহ! পরিচালক পড়ে আছেন ৯০ দশকের চিন্তাধারায়।

তিনি বলেন, ‘নিয়মিত বাংলা ছবির গুটি কয়েক দর্শক শুক্রবার ছবি দেখতে এসেছিল। সরকারি নির্দেশনা নিশ্চিত করে দৈনিক তিনটি করে শো চালালেও শো একপ্রকার ফাঁকা যাচ্ছে। নেটফ্লিক্স, ইউটিউবসহ ডিজিটাল মাধ্যমের এই যুগে এমন

ছবি চালানোর চেয়ে না চালানোই ভালো। তারপরও ছবি না থাকায় বাধ্য হয়েই এটা দিয়ে সিনেমা চালু করলাম। আগামী সপ্তাহে নতুন ছবি পেলে প্রদর্শন করব নইলে শাকিব খানের পুরাতন যে কোনো ছবি চালাবো। তাতেও হয়তো কিছু মানুষ হলে আসবে।’

COMMENTS

[gs-fb-comments]