টিকার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব

টিকার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব

ট্রাম্পের সমর্থনে প্যারেডে একাধিক নৌকাডুবি
তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান
মুসলমানরা কারও দয়ায় ভারতে বসবাস করেন না

শি করোনা টিকার প্রকল্প চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১৪২টি টিকা এখনও প্রি-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে আছে। অর্থাৎ মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়নি।

ক্লিনিক্যাল (মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) পর্যায়ে আছে ৫৬টি। এর মধ্যে প্রথম ধাপে আছে ২৯টি। ১৮টি দ্বিতীয় ধাপে আর তৃতীয় (চূড়ান্ত) ধাপে আছে ৭টি।

সংস্থাটি বলছে, কার্যকারিতা এবং সুরক্ষার নিয়মনীতি মেনে কোনো টিকাই এ বছরের মধ্যে আসতে পারবে বলে তারা মনে করে না। কারণ, এসব টিকার নিরাপত্তার দিকগুলো যাচাই করতে সময় লাগে।

তা সত্ত্বেও চীন এবং রাশিয়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত টিকার প্রয়োগ শুরু করেছে। সেসব টিকাও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় পরীক্ষামূলক হিসেবে রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ, খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ) আভাস দিয়েছে- তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই হয়তো করোনাভাইরাসের টিকার অনুমোদন দেয়া হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অব এক্সপার্টের সদস্য অধ্যাপক ফেরদৌসী কাদরী এক নিবন্ধে লিখেছেন, কোভিড-১৯-এর টিকার জন্য বাংলাদেশ অনেক আগ্রহ নিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে।

এক বা একাধিক টিকা যেন আমরা পরীক্ষা করতে পারি এবং আমরা যেন টিকা পেতে পারি, সেই চেষ্টা হচ্ছে। আমি আশাবাদী, যেসব দেশ কোভিড-১৯-এর টিকা প্রথমদিকে পাবে, তার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে।

জানা গেছে, একটি টিকা চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে রাশিয়ায়। সেটির নাম ‘স্পুটনিক ভি’। ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে রাশিয়ার ‘গ্যামেলেই ইন্সটিটিউট অব এপিডেমিয়োলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

গত সোমবার রাতে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের টিকার প্রথম ব্যাচ জনসাধারণের মধ্যে বিতরণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ব্যাচের উৎপাদনও।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেছেন, কয়েক মাসের মধ্যেই মস্কোর বেশিরভাগ বাসিন্দা করোনার টিকা পাবে। রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের টিকা নিলে অন্তত দু’বছর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে ‘স্পুটনিক ভি’ উৎপাদন করতে পারে রাশিয়া। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন ও সৌদি বাদশাহ সালমানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

চীনের কোম্পানি সিনোভ্যাক বায়োটেক জানিয়েছে, তাদের উদ্ভাবিত টিকা এরইমধ্যে কোম্পানির কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। তাদের ৯০ শতাংশ কর্মী ও স্বজনের শরীরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়েছে।

টিকা উৎপাদনের জন্য এরইমধ্যে তাদের কারখানা নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। যেখানে বছরে ৩০ কোটি টিকা উৎপাদন করা যাবে। গত সোমবার সিনোভ্যাক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের টিকার এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

তবে এই টিকা বয়স্কদের শরীরে অপেক্ষাকৃত কম কাজ করে। চীনের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান টিকা উৎপাদনের অনুমোদন পেয়েছে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘সিনোফার্ম’, আরেকটি ‘বায়োলজিকস’। দুটি টিকাই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে রয়েছে।

অক্সফোর্ডের টিকা প্রয়োগ স্থগিত : অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা যৌথভাবে করোনাভাইরাসের যে টিকাটির চূড়ান্ত পরীক্ষা করছিল, একজন অংশগ্রহণকারী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সেটি স্থগিত করা হয়েছে।

বিষয়টি এ মুহূর্তে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। তাই তাৎক্ষণিকভাবে এ প্রয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, যা গবেষণার ‘রুটিন’ কাজের অংশ বলে মন্তব্য অ্যাস্ট্রাজেনেকার।

করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে বিশ্বজুড়ে যেসব চেষ্টা চলছে, তার মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা সবচেয়ে সম্ভাবনাময়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে ৩০ হাজার অংশগ্রহণকারীর ওপর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

এই টিকাটির সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরীক্ষা স্থগিত থাকবে, যতদিন না স্বতন্ত্র একজন পরীক্ষক এর নিরাপত্তার বিষয়গুলো যাচাই করে দেখবেন। এরপর তদারকি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে যে, পুনরায় পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে কি না।

অক্সফোর্ডের একজন মুখপাত্র জানান, বড় ধরনের পরীক্ষায় অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। তবে সেটা অবশ্যই স্বতন্ত্র একজন পরীক্ষককে সতর্কভাবে যাচাই করে দেখতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অক্সফোর্ডের এই টিকার পরীক্ষা এর আগেও একবার স্থগিত করা হয়েছিল।

যখন কোনো অংশগ্রহণকারীর অসুস্থতার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না, তখন অনেক সময় তাদের হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিনের মধ্যেই আবার পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়ে একজনের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা জানার পর পৃথিবীতে ভ্যাকসিন নিয়ে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে সেটি দুঃখজনক।

তবে এ ধরনের ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। অক্সফোর্ড বা অ্যাস্ট্রাজেনেকার ইতিবাচক বিষয় হল- তারা বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। এটা স্পষ্টত প্রমাণ করে এই গবেষণার অংশ হিসেবে তারা মানুষের জীবনকে মুনাফার ওপরে স্থান দিয়েছেন।

বিজ্ঞানের প্রতি তাদের এই আন্তরিকতা অভিনন্দনযোগ্য। ২০ বা ৫০ হাজার মানুষের ওপর চলমান একটি গবেষণায় যদি একজন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে ওই ভ্যাকসিনের জন্য অসুস্থ-এটা প্রমাণ করে না।

নয় কোম্পানির ঐতিহাসিক অঙ্গীকার : কোভিড-১৯ টিকা উৎপাদনে চেষ্টা করছে, এমন নয়টি প্রতিষ্ঠান গত মঙ্গলবার এক ঘোষণায় নিশ্চিত করেছে যে, টিকা উৎপাদনে তারা সবরকম বৈজ্ঞানিক এবং গুণগত মান বজায় রাখবে।

ওই ঘোষণায় অংশ নেয়া নয়টি প্রতিষ্ঠানের একটি অ্যাস্ট্রাজেনেকা, যারা বলছে, তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের আবেদন করা হবে।

জনসন অ্যান্ড জনসন, বাইয়োএনটেক, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লেইন, পিফিজের, মের্ক, মডার্না, সানোফি এবং নোভাভ্যাক্স ওই ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ‘তারা সব সময়ই নিরাপত্তা এবং টিকা দেয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেবে।

যে পর্যায়ে বিভিন্ন ভ্যাকসিন : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, টিকা তৈরির বেশিরভাগ প্রচেষ্টাই এখনও প্রি-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে রয়েছে। এই ধাপে বিজ্ঞানীরা ভাইরাস বা তার কোনো একটি অংশ তৈরি করেন।

সেটি অন্য প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করে দেখেন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ঠিকঠাক সাড়া দিচ্ছে কি না। ১৩৯টি প্রচেষ্টা এখনও এই ধাপে আটকে আছে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রথম ধাপে সীমিত সংখ্যক মানুষের মধ্যে টিকাটি প্রয়োগ করা হয়।

দেখা হয়, প্রি-ক্লিনিক্যাল পর্বে পশুর দেহে যেভাবে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, মানুষের শরীরেও তা একইভাবে কাজ করছে কি না। বর্তমানে ২৫টি টিকা রয়েছে এই ধাপে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে আছে ১৫টি ভ্যাকসিন।

ক্লিনিক্যাল দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে-সম্ভাব্য টিকাটি কতটা নিরাপদ আর তা কোন মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে-সেটি দেখেন বিজ্ঞানীরা। তৃতীয় ধাপে ভ্যাকসিন পরীক্ষায় কার্যকারিতা ও শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দিকগুলো দেখা হয়।

এই ধাপটিতে এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন পৌঁছাতে পেরেছে। এ ছাড়া পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভ্যাকসিন বাজারজাতের অনুমোদন দেয় দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

গত জুনে ক্যানসিনো বায়োলোজিক্সের ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে পরীক্ষায় সফল হয়েছে দাবি করে সরকারি প্রতিষ্ঠান গামালিয়া ইন্সটিটিউটের ভ্যাকসিনের অনুমোদন করেছে রাশিয়া।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তৃতীয় ধাপে পৌঁছানো সাতটি ভ্যাকসিনের তিনটি চীনের। এর মধ্যে নিষ্ক্রিয় ভাইরাস থেকে টিকা তেরি করেছে সাইনোভেক নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

জুলাইয়ে আরব আমিরাতে চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু করেছে সাইনোফার্ম নামে দেশটির আরেকটি কোম্পানি। শেষ ধাপের এই দৌড়ে আরও আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানিও।

অক্টোবরেই আসছে ফাইজারের টিকা : যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ উৎপাদনকারী ফাইজার ইনকর্পোরেশন ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক যৌথভাবে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরিতে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠান দুটির বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও টাইম ম্যাগাজিন বলছে, এ বছরের মধ্যেই তারা করোনার টিকা সরবরাহ করতে পারবে। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়েও আত্মবিশ্বাসী তারা।

সংবাদমাধ্যম দুটির ভাষ্য, চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যেই বাজারে আসতে পারে প্রতিষ্ঠান দুটির করোনা টিকা। বায়োএনটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউগুর শাহিন জানিয়েছেন, তাদের টিকার চূড়ান্ত ধাপ বা তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা এ মাসের শেষেই শুরু হচ্ছে।

এ পরীক্ষায় ৩০ হাজার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ পরীক্ষার ফল চলতি বছরের মধ্যেই জানা যাবে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিনটির অনুমোদন চাওয়া হবে।

টাইম ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাইজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালবার্ট বোরলা বলেছেন, তারা আশা করছেন, আগামী অক্টোবর নাগাদ তাদের ভ্যাকসিনের জন্য ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়ে যাবে।

সেপ্টেম্বরে তারা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার ফল জেনে যাবেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন কোম্পানি নোভাভ্যাক্স সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা সরকারের কাছ থেকে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা পাচ্ছে। তারা দ্রুত তাদের ভ্যাকসিন পরীক্ষার গতি বাড়াচ্ছে। এ বছরের শেষ নাগাদ তাদের ভ্যাকসিনটি নিরাপদ কি না-তা জানা যাবে।

অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিলকেন ইন্সটিটিউটের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসের জন্য ১৯০টি ভ্যাকসিন ও ২৬৩ ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নয়নে কাজ চলছে।

এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার জোট ভ্যাকসিন তৈরিতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।

এ ছাড়া ভ্যাকসিনের দৌড়ে এগিয়ে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ক্যানসিনো (চীন), মডার্না (যুক্তরাষ্ট্র), উহান ইন্সটিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস (চীন), বেইজিং ইন্সটিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস (চীন), সিনোভ্যাক্স (চীন), নোভাভ্যাক্স (যুক্তরাষ্ট্র), ইনোভিও (যুক্তরাষ্ট্র)।

রুশ টিকা পরীক্ষার উপাত্তে অসঙ্গতি, ১৬ বিজ্ঞানীর খোলা চিঠি : সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাশিয়ার তৈরি স্পুটনিক ভি টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালের ফলাফল।

তবে ৪ দিন বাদেই প্রকাশিত উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ল্যানসেটের সম্পাদক ড. রিচার্ড হর্টন ও গবেষণা প্রতিবেদনটির লেখকদের উদ্দেশে চিঠি লিখেছেন বিশ্বের খ্যাতনামা ১৬ বিজ্ঞানী।

এদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এনরিকো এম বুচ্চিসহ ইতালি, জার্মানি, জাপান ও ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরাও। এ খবর দিয়েছে দ্য হিন্দু।

খোলা চিঠিটিতে বিজ্ঞানীরা লিখেছেন: বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের উচিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও অন্তর্নিহিত উপাত্তের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেয়া।

মূল উপাত্তের অভাবে ল্যানসেটে প্রকাশিত আর্টিক্যালটিতে বর্ণিত গবেষণাটির বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতের ডিবিটি-ওয়েলকাম ট্রাস্ট ইন্ডিয়া এলায়েন্সের সিইও ও ভাইরোলজিস্ট ড. শহীদ জামিল বলেন, চিঠিতে বিজ্ঞানীদের উল্লিখিত উদ্বেগগুলো যথার্থ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের গ্রাফে পয়েন্ট ও প্যাটার্নগুলোর মধ্যে একাধিক জায়গায় মাত্রাতিরিক্ত সাদৃশ্য পাওয়া গেছে।

ল্যানসেটে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির তিনটি অংশ টেনে বিজ্ঞানীরা উপাত্তগুলোর মধ্যে একাধিক প্যাটার্ন চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো আলাদা পরীক্ষার হলেও দেখতে একইরকম।

উদাহরণস্বরূপ, প্রতিরোধক্ষমতা সংশ্লিষ্ট একটি গ্রাফে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ২১ ও ২৮তম দিনের অ্যান্টিবডির পরিমাণ একই। এরকম অসঙ্গতি আরও কয়েকটি ফলাফলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।

COMMENTS

[gs-fb-comments]