নিজের ঘর ও সন্তানদের জন্য যে দোয়া করা আবশ্যক

নিজের ঘর ও সন্তানদের জন্য যে দোয়া করা আবশ্যক

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির প্রবেশপথে কোরআনের আয়াত!
বিশ্বে সবচেয়ে সুখে রয়েছেন ভারতীয় মুসলিমরা : আরএসএস প্রধান
সুখময় জীবনের জন্য যে অপরিহার্য নির্দেশিকা দিয়েছে ইসলাম

নিজ ঘর কিংবা পরিবারের কল্যাণ চায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাইতো আল্লাহর পয়গাম্বার হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম নিজ ঘর ও সন্তান-সন্তুতির কল্যাণ কামনায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। শান্তি লাভ ও ঈমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ দোয়াটি উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য দিকনির্দেশনা।

হজরত ইবরাহিম আল্লাইহিস সালাম নিজের জন্য ও সন্তান-সন্তুতির জন্য এভাবে দোয়া করেন-
رَبِّ اجْعَلْ هَـذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الأَصْنَامَ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিঝআল হাজা বালাদান আমিনাও ওয়াঝনুবনি ওয়া বানিয়্যা আন নাবুদাল আসনাম।’
অর্থ : ‘হে আমার পালনকর্তা, এ স্থানকে (নগর, শহর কিংবা ঘর) শান্তিময় করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তান-সন্ততিকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখুন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৩৫)

কুরআনুল কারিমে উল্লেখিত এ দোয়ায় যে বিষয়টি ওঠে এসেছে, তাহলো- নিজেদের বাসস্থান, প্রত্যেকের নিজের ও নিজ সন্তানদের জন্য আল্লাহর অনুরাগী হতে দোয়া করা। এটি মুমিন মুসলমানের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি।

দুনিয়া কিংবা পরকালের শান্তি ও নিরাপত্তা আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাসীদের জন্য সুনির্ধারিত। আর দুনিয়ার অকল্যাণ কিংবা যন্ত্রণাদয়ক শাস্তি চায় এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বরং সব ধর্ম বর্ণ গোত্রের মানুষই চায় কল্যাণ ও শান্তি।

এ কারণেই অন্য আয়াতে প্রকৃত পক্ষে কে বা কারা দুনিয়া এবং পরকালে শান্তি ও কল্যাণের অধিকারী হবে; এ কল্যাণ লাভে করণীয়ই বা কী অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা তা এভাবে তুলে ধরেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের হেফাজত কর এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকেও সেই (জাহান্নামের) আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জালানি হবে মানুষ এবং পাথর। যেখানে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাবের ফেরেশতারা। আল্লাহ তাআলা যা আদেশ করেন, তারা তা অমান্য করে না আর তারা তাই করে; যা করতে আদেশ করা হয়।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৬)

আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মাদির সব মুমিন মুসলমানকে উদ্দেশ্য করে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আয়াত নাজিল করেছেন। যাতে মৃত্যুর আগেই মুমিন মুসলমান নিজেদের সব অন্যায় কাজ থেকে বিরত রেখে পরকালের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করে। আল্লাহ কাছে নিজেদের ব্যাপারে আশ্রয় প্রার্থনা করে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিজ ঘর ও সন্তান-সন্তুতির শিরকমুক্ত ঈমান লাভে কুরআনে উল্লেখিত এ দোয়া বেশি বেশি পড়ার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

COMMENTS

[gs-fb-comments]