জমজম কূপের প্রধান উন্নয়ন প্রকৌশলী ইয়াহইয়া হামজার ই’ন্তেকাল

জমজম কূপের প্রধান উন্নয়ন প্রকৌশলী ইয়াহইয়া হামজার ই’ন্তেকাল

মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
জীবনে সফলতা অর্জনে রাসুল (সা.) যে পথ দেখিয়েছেন
বাংলা‌দেশের ২ হ্যাকার গ্রুপের আ’ক্রমণ, ফ্রা‌ন্সের ১০০ এর বে‌শি সাইট হ্যা’ক

জমজম কুপের উন্নয়ন ও সেবাদানকারী সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ড. ইয়াহইয়াহ হা;মজা কোশক (৮০) গত সোমবার (১ মার্চ) ই;ন্তে;কাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। তাঁর মৃ;ত্যু;তে সৌদি আরব গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। খবর আরব নিউজ।

প্রকৌশলী ড. ইয়াহইয়া হামজা কোশক সৌদি আরবের প্রকৌশলীদের জনক হিসেবে পরিচিত। জমজম কূপের উন্নয়নে পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক উন্নয়ন কাজের জনক ড. কোশক। তিনিই প্রথম জমজমের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে কূপে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি সৌদি আরবের ন্যাশনাল ওয়াটার কোম্পানির মহাপরিচালক ছিলেন। সৌদির প্রেস ও প্রকাশনা সংস্থার সদস্যও ছিলেন তিনি।

পবিত্র নগরী মক্কার এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম নেন প্রকৌশলী ড. ইয়াহইয়া হামজা কোশক। তাঁর পিতা মক্কার

বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর পিতা হজ মৌসুমে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ তুর্কি থেকে আগত হজ ও ওমরা পালনকারীদের সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।ড. ইয়াহইয়া হামজার মা ছিলেন বাদশাহ ফয়সালের স্ত্রী রানী ইফফাতের ঘনিষ্ট বান্ধবী। মসজিদে হারামে দেখা-সাক্ষাতে মিলিত হতেন তারা।

বাদশাহ ফয়সাল ও তার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠিত তায়েফ শহরের প্রথম স্কুলে ড. ইয়াহইয়া পড়ালেখা শুরু করেন। পরে তিনি মিসরের কয়রোতে প্রকৌশল বিজ্ঞানে পড়াশোনা শুরু করেন। দেশে ফিরে তিনি রাজধানী রিয়াদে প্রকৌশল বিজ্ঞানের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

প্রকৌশল বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণা করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। সেখানে তিনি উচ্চতর শিক্ষা ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।সৌদি আরবের ন্যাশনাল ওয়াটার কোম্পানিতে দায়িত্ব পালনকালে এবং জমজম কূপের উন্নয়নে কাজ করার সময় তিনি তার সহকর্মীদের কাছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

ড. ইয়াহইয়া হামজা কোশকের নেতৃত্বেই জমজম কূপের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হয়। এ কাজে তিনিই সর্বপ্রথম জমজম কূপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। জমজমের পানি প্রবাহধারা, পরিচ্ছন্নতার উপর তিনি ‘Zamzam :

The Holy Water’ নামে একটি বই রচনা করেন। ওই বইতে তার দেখা জমজম কূপের অভ্যন্তরের বিবরণ স্থান পেয়েছে। প্রত্নতাত্বিক সব বিষয় তিনি ওই বইতে তুলে ধরেন।

প্রকৌশলী ইয়াহইয়া জানিয়েছিলেন, ‘জমজম কূপের মধ্যে তিনি পানির দুইটি উৎস দেখেছিলেন। যার একটি এসেছে কাবার দিক থেকে আর একটি এসেছে আজিয়াদের দিক থেকে। এছাড়াও জমজমকূপের ভেতরে পাথরের মধ্য ছোট ছোট বারোটি গর্তের অস্তিত্বও রয়েছে বলে ঐতিহাসিক তথ্য থেকে জানা যায়।

আল্লাহ তাআলা জমজম কূপের উন্নয়ন প্রকৌশলী ড. ইয়াহইয়া হামজাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।

COMMENTS

[gs-fb-comments]