যেসব ভুলের কারণে দোয়া কবুল হয় না!

যেসব ভুলের কারণে দোয়া কবুল হয় না!

ধরাশয়ী ফ্রান্সের সেই ওয়েবসাইট বাংলাদেশিদের দেড় ঘণ্টার হামলায়
গবেষণার জন্য মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন আজহারী
সৌভাগ্যময় মৃত্যুর কিছু নিদর্শন

দোয়া ইবাদতের মগজ। সর্বাবস্থায় যারা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ আমাদের প্রতিটি দোয়াই কবুল করেন। কিছু দোয়ার ফলাফল তাড়াতাড়ি দেন, কিছু দোয়ার ফলাফল আখিরাতের জন্য জমা রেখে দেন।

কিন্তু আমাদের কিছু ভুলের কারণে কখনো কখনো আমাদের দোয়া বিফলে যাওয়ার আশ’ঙ্কা থাকে। তাই আমাদের উচিত দোয়ার যথাযথ ফলাফল পাওয়ার জন্য সেসব ভুল শুধ’রে নেওয়া। নিম্নে এমন কিছু বিষয় তুলে ধ’রা হলো, যেগুলোর কারণে কখনো কখনো বান্দার দোয়া বিফলে যেতে পারে।

ইখলাসহীনতা : মহান আল্লাহর দরবারে ইখলাসের স’ঙ্গে দোয়া ক’রতে হয়। পরিপূর্ণ ইখলাস না থাকলে সে দোয়া বিফলে যাওয়ার আশ’ঙ্কা বেশি থাকে। রাসুল (সা.) বলেছেন, দোয়াও একটি ইবাদত। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৭৯)

আর ইবাদত ক’রতে হয় একমাত্র আল্লাহর জন্য। ইখলাসহীন ইবাদত মহান আল্লাহর কাছে মূল্যহীন। তাইতো পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের ইখলাসের স’ঙ্গে ইবাদত ক’রতে আদেশ ক’রেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের কেবল এ নির্দে’শই দেওয়া হয়েছিল যে তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বিনকে একনিষ্ঠ করে এবং নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর এটাই সঠিক দ্বিন।’ (সুরা : বায়্যিনাহ, আয়াত : ০৫)

অতএব, আল্লাহর অন্যান্য ইবাদতের মতো দোয়াও ইখলাসের স’ঙ্গে ক’রতে হবে। অন্যথায় সেই দোয়া বিফলে যেতে পারে।দোয়া কবুল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া : অনেক সময় মানুষ দোয়ার ফলাফল পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করে। দোয়া করার পর দ্রুত ফলাফল না পেলে হ’তাশ হয়ে প’ড়ে। এমনকি এ রকমও বলতে শুরু করে যে আল্লাহ আমা’র দোয়া কবুল করেন না। এতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট। ফলে তার দোয়া বিফলে যাওয়াই স্বা’ভাবিক।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেক ব্য’ক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে। যদি সে তাড়াহুড়া না করে আর বলে যে আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমা’র দোয়া তো কবুল হলো না।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৩৪০)

অতএব, দোয়া করার ক্ষেত্রে কখনো তার ফলাফল পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করা যাবে না এবং ফলাফল পেতে দেরি হলে আল্লাহর ব্যাপারে অসংল’গ্ন কথা বলা যাবে না।

গুনাহ ও র’ক্তের ব’ন্ধন ছিন্ন করার দোয়া : গুনাহ ও আত্মীয়তার ব’ন্ধন ছিন্ন করার দোয়া মহান আল্লাহ কবুল করেন না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বান্দার দোয়া সর্বদা গৃহীত হয় যদি না সে অন্যায় কাজ অথবা আত্মীয়তার স’স্পর্কচ্ছেদ করার জন্য দোয়া করে এবং দোয়ায় তাড়াহুড়া করে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৮২৯)

অমনোযোগ : দোয়ায় মনোযোগ না থাকলেও সে দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোম’রা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো, তোম’রা জে’নে রাখো যে আল্লাহ নিশ্চয়ই অমনোযোগী ও অসাড় মনের দোয়া কবুল করেন না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৯)

গুনাহে অবিচলতা : দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো, গুনাহ ত্যা’গ করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। অতএব, দোয়া কবুল হওয়ার জন্য গুনাহ ত্যা’গ করে মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা উচিত। কারণ যারা নিজেকে বদলায় না, মহান আল্লাহও তাদের বদলান না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সম্প্রদা’য়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজে’রা পরিবর্তন করে। আর কোনো সম্প্রদা’য়ের জন্য যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন, তবে তা রদ হওয়ার নয়। এবং তিনি ছাড়া কোনো অভিভাবক নেই। (সুরা : রাদ, আয়াত : ১১)

হারাম ভক্ষণ : কখনো কখনো হারাম ভক্ষণ ও হারাম উপার্জনের কারণে মানুষের দোয়া কবুল হয় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের ওপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে, যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে সম্পদ অর্জন করল, হালাল উপায়ে, নাকি হারাম উপায়ে!’ (বুখারি, হাদিস : ২০৮৩)। অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৩৬)

তাই দোয়া কবুল হওয়ার জন্য অবশ্যই হালাল ভক্ষণ ক’রতে হবে। হালাল উপায়ে উপার্জন ক’রতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবার ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষ’মা করুন। সবাইকে দোয়া কবুলে প্রতিব’ন্ধক অভ্যাসগুলো ত্যা’গ করে সঠিকভাবে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

COMMENTS

[gs-fb-comments]