মহানবী (সা.) যা কখনই সহ্য ক’রতেন না!

মহানবী (সা.) যা কখনই সহ্য ক’রতেন না!

তিন বছর বয়সেই কোরআন মুখস্থ, বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির প্রবেশপথে কোরআনের আয়াত!
৮ মাস পর অস্ট্রেলিয়ার মসজিদে জুমা আদায় মুসল্লিদের

শি’শুর প্রতি স্নেহ-ভালোবাসার বিষয়ে ইসলামে অত্যন্ত তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ব মানবতার মু’ক্তির দিশারি মহানবী (সা.) শি’শুদেরকে বেহেশতের নিকটবর্তী মনোরম উদ্যান এবং বেহেশতের বর্ণাঢ্য প্রজাপতির স’ঙ্গে তুলনা ক’রেছেন।

ইসলাম শি’শুকে স্নেহ-মমতা ও আদর-যত্ন দিয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছে। শি’শুদের প্রতি যেন কোনো ভাবেই ক’ঠোর তা প্রদ’র্শন করা না হয় এবং দারিদ্রের ভ’য়ে যেন তাদেরকে হ’ত্যা করা না হয় এ বিষয়েও স্পষ্ট নির্দে’শনা রয়েছে।

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘আর দারিদ্রের ভ’য়ে তোম’রা তোমাদের সন্তানদেরকে হ’ত্যা করো না। আমিই তাদের এবং তোমাদেরও রিজিক দেই। তাদেরকে হ’ত্যা করা নিশ্চয় মহাপা’প’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৩১)। এ আয়াতে শি’শুদের হ’ত্যার বিষয়ে ক’ঠোরভাবে নি’ষেধ করা হয়েছে। আজকের শি’শু আগামীর ভবিষ্যৎ।

তাদেরকে যদি সঠিক শিক্ষা এবং উপযুক্ত সুবিধার মাধ্যমে তাদের পূর্ণ মান’সিক ও নৈতিক বৃ’দ্ধিপ্রাপ্তিতে সাহায্য করা হয়, তাহলে তারা সমাজে’র সত্যিকার উপযোগী ও কা’র্যকর সদস্যে প’রিণত হবে। অথচ আজ শি’শুরা বাবার কোল এমন কি মাতৃগর্ভেও শি’শু নি’রাপদ নয়। এমন সব নজিরবিহীন ও নি’র্লজ্জ ঘট’না আজ ঘ’টে চলেছে, যা শুনলে হৃদয় ক্ষ’ত-বি’ক্ষ’ত হয়ে যায়।

সমাজে আজ শি’শুর প্রতি নৃ’শং’সতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার ফলে আজকাল সচে’তন মহলে শি’শুহ’ত্যা প্র’তিরো’ধের আ’হ্বান জো’রদার হচ্ছে। অথচ ইসলাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই শি’শু হ’ত্যাকে বারণ করেছে। বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) যু’দ্ধক্ষে’ত্রেও কোন শি’শুকে হ’ত্যা ক’রতে বারণ ক’রেছেন।

রণা’ঙ্গ’নে ভুলক্রমে কোন ইহুদী শি’শু মা’রা গেলে হুজুর পাক (সা.) সাহাবিদের প্রতি অনেক অস’ন্তুষ্ট হন। কারণ শি’শুরা নিষ্পাপ, মাসুম। তাদের কোন পাপ নেই। আম’রা জানি, এ বিশ্বের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ পরম দয়ালু আল্লাহতায়ালা মহানবীকে (সা.) প্রেরণ ক’রেছেন।

পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম ক’রেছেন। মানুষকে মানুষ হিসেবে কীভাবে সম্মান ক’রতে হয় তা তিনি নিজ জীবনাদর্শের মাধ্যমে শিখিয়েছেন।

শি’শুর প্রতি উত্তম আচরণ স’স্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্য’ক্তি শি’শুকে স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান দেখায় না সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (তিরমিজি)। একটি শি’শু যখন জ’ন্ম নেয়, তখন সে নিষ্পাপ থাকে। মানুষ সাধারণত শি’শুদেরকে ভালোবাসে এবং

আদর ক’রতে চায় আর শি’শুদেরকে ভালোবাসার প্রতি ইসলাম অনেক জো’র দেয়। আ’সলে শি’শু একটি বীজে’র মত। আম’রা যত বেশি এর পরিচর্যা করবো, এর ফুল ও ফল তত ভালো হবে।

মহানবী (সা.) শি’শুদেরকে অত্যন্ত স্নেহ ক’রতেন ও ভালোবাসতেন, তাদেরকে কাছে টেনে চুমু খেতেন, তাদের জন্য সর্বদা ক’ল্যাণ ও মঙ্গলের দোয়া ক’রতেন। একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) একবার হাসানকে (তার দৌহিত্র শি’শু) চুমু খেলেন। তখন নবী করিম (সা.)এর স’ঙ্গে ছিলেন হজরত আকরা ইবনে হাবিস (রা.)।

তিনি বির’ক্তি ভরে বললেন, ‘আমা’র ১০টি সন্তান রয়েছে, আমি কাউকে কোনদিন চুমু খাই নি।’ এ কথা শুনে নবী করিম (সা.) তার দিকে তাকিয়ে ক’রুণা ভরে বললেন, যে দয়া করে না সে দয়া পায় না’ (বোখারি)। শি’শুদের প্রতি মহানবীর (সা.) ভালোবাসার কারণে শি’শুরাও মহানবী (সা.)-কে গ’ভীরভাবে ভালোবাসতেন। হজরত আবদুল্লাহ বিন জাফর (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) যখন কোনো সফর শেষে বাড়িতে ফিরতেন,

তখন বাচ্চারা তার আগমনের পথে গিয়ে অভ্যর্থনা জা’নাত। একবার তিনি তার সফর থেকে এসে আমাকে তার বাহনের সামনে বসালেন। অতঃপর নাতি হাসান, হোসেন (রা.)-কে বাহনের পেছনে বসালেন। তারপর আমাদের নিয়ে তিনি মদীনায় প্রবেশ করলেন (মুসলিম)।

অব’হেলিত শি’শুদের প্রতি সমাজে’র সচে’তন মানুষের সম্মিলিত সহানুভূতি একান্ত প্রয়োজন। ওদের প্রতি সামান্য সহানুভূতির ফলে আম’রা খুব সহজে পৃথিবীকে স্বর্গরাজ্যে প’রিণত ক’রতে পারি।

কেননা, যে শি’শুটি আজ অব’হেলিত , হয়তো সেই শি’শুই একদিন সমাজ ও দেশের ক্ষ’তির কারণ হতে পারে। তাই তাকে যদি প্রথম থেকেই আম’রা নিজ সন্তানের ন্যায় ভালোবাসি, তাহলে হয়তো সে দেশের জন্য গর্বের কারণ হবে। আল্লাহর প্রেরিত প্রত্যেক নবী-রাসুলই শি’শুদেরকে আদর ক’রতেন, ভালোবাসতেন, মূল্যায়ণ ক’রতেন।

শি’শুদের ওপর অ’ত্যা’চার কোনভাবেই মহানবী (সা.) সহ্য ক’রতেন না। এমনকি যু’দ্ধের ম’য়দানেও যেন কোন শি’শুকে হ’ত্য না করা হয় সে বিষয়ে বিশেষ ভাবে নির্দে’শ প্রদান ক’রতেন। তাই আসুন, শি’শুদের প্রতি স্নেহ-ভালোবাসার ডানা প্রসারিত করি আর বিশ্বের সকল শি’শুর প্রতি মমতাশীল হই।
লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট

COMMENTS

[gs-fb-comments]