দ্বন্দ্ব ভুলে সমঝোতায় নুর-রাশেদ

দ্বন্দ্ব ভুলে সমঝোতায় নুর-রাশেদ

ইতালিতে করো’নায় প্রা’ণ গেলো প্রবাসী বাংলাদেশির
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি চিকি’ৎসক বাংলাদেশের রুনা
করোনা প্রতিরোধে সরকারের নতুন পদক্ষেপ

বাংলাদেশ ছাত্র, যুবক, প্রবাসী ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ খান। রোববার (৪ জুলাই) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি জানিয়েছেন রাশেদ খান। এ সময় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন রাশেদ।

ফেসবুক পোস্টে চলমান বিতর্কের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে রাশেদ বলেন, আমরা বয়সে তরুণ। এ কারণে মাঝে মধ্যে বক্তব্য, কথা ও কাজে ভুল করে বসি। তবে নুর (নুরুল হক নুর) ও আমার মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে সেটার অবসান হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে নিজেরা চলার পথে আরও বেশি সতর্ক থাকব।

রাশেদ খান বলেন, নুর ও আমার মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুর দিন থেকেই সুসম্পর্ক ছিল। ভবিষ্যতেও সম্পর্ক ধরে রেখে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা দেশের মানুষকে অভিভাবক মনে করি। আমাদের ভুল হলে তারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন। তারা পরামর্শ দেবেন, যাতে নিজেদেরকে শুধরে নিয়ে আরও পরিপক্ব করে গড়ে তুলতে পারি।

এ সময় ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে রাশেদ খান বলেন, সবার কাছে আবারও ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এর আগে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পাল্টাপাল্টি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন নুর ও রাশেদ। নুরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্র, যুব, শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের যৌথ

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সাথে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নতুন নেতৃত্ব বাছাই ও কমিটি গঠনে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

কমিশনকে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নতুন নেতৃত্ব বাছাই ও কমিটি গঠনে নির্দেশনা প্রদান করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। কমিটি গঠনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু হানিফকে।

এর তিন ঘণ্টা পর নুর আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক রাশেদ খান ও যুগ্ম আহবায়ক সোহরাব হোসেনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে৷

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘২ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের এক যৌথ মিটিংয়ে সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’ এর আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেনকে সাময়িক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।’

একই সাথে কেন তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, তার কারণ দর্শাতে তদন্ত কমিটির কাছে যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদানের অনুরোধ করা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে আব্দুজ জাহেরকে।

একই সময়ে পাল্টা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন রাশেদ খান। এতে বলা হয়, ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের যেখানে কোনো ‘সমন্বয়ক’ পদবি নেই, সেখানে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের ‘সমন্বয়ক’ নামে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার

ঘোষণা চরম অসাংগঠনিক কার্যকলাপ। এই পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের ‘সমন্বয়ক’ পদবি ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে বিষয়ে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হলো।

একইসাথে ছাত্র অধিকার পরিষদের সকল বিশ্ববিদ্যালয়-জেলা-মহানগর ও উপজেলা কমিটিকে বিভ্রান্ত না হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান জানান রাশেদ।

COMMENTS

[gs-fb-comments]