মৃ’ত্যু’র আগে একবার বাবা বলে ডাকতে চাই!

মৃ’ত্যু’র আগে একবার বাবা বলে ডাকতে চাই!

কারা’গারে বসে জে’লারের কাছে যে আবদার করলেন মিন্নি
করোনায় মা’রা গেলেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য, কান্নায় ভে’ঙ্গে পরলেন শেখ হাসিনা !
টাঙ্গাইলে ধর্ষ;ণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বর্বরতার প্রতিবাদে মানবব;ন্ধন

প্রতিটা শিশুই জন্মের পর বাবা মায়ের আদর, স্নেহ আর ভালোবাসায় বেড়ে উঠার পাশাপাশি পিতৃত্বের পরিচয়ে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করার কথা থাকলেও তার কিছুই ঘটেনি আসমাউল হুসনার জীবনে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে

প্রাকৃতিক নিয়মে স্বামী, সংসার ও সন্তানের জননী হলেও এখন পর্যন্ত পাননি পিতৃত্বের পরিচয়।
৪৩ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন পিতৃত্বের পরিচয়ের। অন্যদের মতো বাবা বলে ডাকতে চান। কিন্তু জীবনের অনেকটা

সময় পেরিয়ে গেলেও আজো বলা হয়নি বাবা। অশ্রুসিক্ত নয়নে একবুক দুঃখ-কষ্ট নিয়ে এমনটা জানাচ্ছিলেন আসমাউল হুসনা। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের গোপগ্রাম এলাকার মৃ;;ত মোজাহার আলী শেখের ছেলে মো. আলতাফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিদার হালিমা খা;তুনের মেয়ে।

আসমাউল হুসনা জানান, আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান আমি। আমার পিতা তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত আমার মাকে বিয়ে করেন কিন্তু বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখেন। আমি যখন মায়ের গর্ভে(৮ মাস) তখন আমার পিতা মাকে তার

বাড়ি পাঠিয়ে দেন। অর্থাৎ আমার জন্মের পূর্বেই আমাকে ও মাকে ফেলে চলে যান বাবা এবং আবার তৃতীয় বিয়ে করেন। তিনি গত ৪৩ বছর আমার মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি।

তিনি তার তৃতীয় স্ত্রী এবং তার ঘরের এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে কুমারখালীর মালিয়াট গ্রামে বসবাস করছেন। কিন্তু সন্তান হিসেবে আমার বাবা আমাকে সমাজে পরিচয় দেননি। এখন পর্যন্ত আমার মা ও আমি পিতার আদর ভালোবাসা ও

সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছি। ২০০৫ সালে তার গ্রামের বাড়িতে (মালিয়াট) গিয়ে একবার তার সঙ্গে দেখা করি।

কিন্তু সেসময় আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে বলেন ভবিষ্যতে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে এখন পর্যন্ত তিনি আর কোনো খোঁজ নেননি। এছাড়াও বাবার সব সম্পত্তি থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সম্পত্তি না পাই মরার আগে একবার বাবা বলে ডাকতে চাই, পিতৃত্বের পরিচয় নিয়ে মরতে চাই।

জানা যায়, আনুমানিক ১৯৭৫/১৯৭৬ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর জগন্নাথপুর এলাকার

মৃত গোলাম রহমানের মেয়ের সঙ্গে খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের গোপগ্রাম এলাকার মৃত মোজাহার আলীর শেখের ছেলে আলতাফ হোসেনের গোপনে বিয়ে হয়। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের বছর

দুয়েক পরই দ্বিতীয় স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন। পরবর্তীতে আলতাফ কুমারখালীর মালিয়াট গ্রামে তৃতীয় বিয়ে করেন। বর্তমানে তিনি তৃতীয় স্ত্রী সঙ্গেই জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে আলতাফ হোসেনের সঙ্গে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।তবে আলতাফ হোসেনের চাচাতো ভাই তৈয়ব মুঠোফোনে বলেন, আসমার মায়ের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি গোপন ছিল। কিন্তু বছর দুয়েক পর ডিভোর্সের সময় জানতে পেরেছি।

COMMENTS

[gs-fb-comments]