পৃথিবীর সবচেয়ে কম উচ্চতার ৫ ব্যক্তি!

পৃথিবীর সবচেয়ে কম উচ্চতার ৫ ব্যক্তি!

পর্তুগালে অভিবাসীদের নাগরিকত্ব সহজ হল
সিলেটের আলোচিত সেই মুন্নী এবার ইয়া’বাসহ গ্রে’প্তার
আজ দেখা যাবে বিরল নীল চাঁদ

বিশ্বে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা উচ্চতায় অনেক লম্বা। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তির নাম রবার্ট ওয়াডলো। যার উচ্চতা ৮ ফুট ১১ ইঞ্চি। লম্বা মানুষদেরকে আমরা সবাই পছন্দ করি। তবে এতোটা লম্বা দেখলেও নিশ্চয়ই আপনি ঘাবড়ে যাবেন! কারণ তার দিকে তাকাতে হলে, আপনাকে ঘাড় উঁচিয়ে দেখতে হবে।আবার বিশ্বের সবচেয়ে খাটো ব্যক্তিদের দেখতেও আপনাকে মাথা নিচু করতে হবে।

জানেন কি? বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে খাটো ব্যক্তির নাম চন্দ্র বাহাদুর দঙ্গি। যার উচ্চতা মাত্র ২১ ইঞ্চি। শুধু তিনিই নন, তার মতো আরও অনেকেই রয়েছেন বিশ্বে। যাদের উচ্চতা কেবল কয়েক ইঞ্চি পর্যন্ত গিয়েই থেমে গেছে।

বামনত্ব মূলত হাড়ের ব্যাধি। ২০০টিরও বেশি শারীরিক ত্রুটির কারণে বামনত্ব হয়ে থাকে। এর মধ্যে অস্টিওজেনেসিস ইনফরেক্টিয়া অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে শরীর বয়সের তুলনায় বাড়ে না। আকার, বিপাকীয় এবং হরমোনজনিত শারীরিক সমস্যার কারণেই বামনত্ব ঘটে থাকে। তেমনই কয়েকজন বামন ব্যক্তিদের সম্পর্কে জেনে নিন, যারা উচ্চতায় ছোট হলেও জীবনে থেমে যাননি-

লিন ইউ-চিহ (২৬.৬ ইঞ্চি লম্বা, ৬৭.৫ সেন্টিমিটার)

গিনেস বিশ্ব রেকর্ড অনুসারে, লিন ইউ-চিহ বিশ্বের সবচেয়ে খাটো ব্যক্তি সংক্ষিপ্ততম ব্যক্তি। তিনি তাইওয়ানের একজন লেখক এবং সামাজিক কর্মী। তিনি অস্টিওজেনেসিস রোগের কারণে স্বাভাবিক শারীরিক উচ্চতা পাননি।

লিনের মতো ব্যক্তিদের সাহায্যার্থে অস্টিওজেনেসিস ইম্পের্পেকটা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০৮ সালের মে মাসে, তিনি ‘দ্য ওয়ার্ল্ড স্মলেস্ট মি’ নামক ব্রিটিশ তথ্যচিত্রে হাজির হন।

জ্যোতি কিসঙ্গে আমজে (২৪.৭ ইঞ্চি লম্বা, ৬২.৮ সেন্টিমিটার)

জ্যোতি সবচেয়ে খাটো নারী হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন। ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণকারী বিশ্বের সবচেয়ে খাটো নারী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। তার উচ্চতা মাত্র ২৪ ইঞ্চি। ১৮ তম জন্মদিনে জ্যোতি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্বের ক্ষুদ্রতম জীবিত নারী’ হিসাবে গিনেস বুক রেকর্ডে নিজের নাম লেখান।

 

জ্যোতি আখোড্রিপ্লাসিয়া নামক জেনেটিক ডিসর্ডারে ভুগছেন। ২০০৯ সালে প্রকাশিত ‘বডি শক’ নামক এক ডকুমেন্টারিতে জ্যোতি প্রথম মিডিয়ায় উপস্থিত হন। এ ছাড়াও, বিগ বস টেলিভিশন শো’তেও অতিথি হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন জ্যোতি। তিনি ২০১৪ সালে আমেরিকান হরর স্টোরির চতুর্থ সিজনে মা পেতিতে চরিত্রে অভিনয় করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি জ্যোতি একজন রাঁধুনি, উদ্যোক্তা এবং লেখক।

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ব্যক্তির তালিকায় তার নামটিও রয়েছে। ১৯৯৩ সালের জুনে ফিলিপাইনে জন্মগ্রহণ করেন এ ব্যক্তি। তার ১৮ বছর বয়সে তিনি ‘সবচেয়ে ছোট জীবিত ব্যক্তি’ খেতাবপ্রাপ্ত হন। তার বাবা ছিলেন একজন কামার। যদিও তার অন্যান্য ভাই-বোনেরা স্বাভাবিক উচ্চতার। তার বয়স যখন এক বছর; তখন থেকেই তার শারীরিক বিকাশ বন্ধ হয়ে যায়।

তার পরিবারের অবস্থা সচল না থাকায়, ১২ বছরের আগ পর্যন্ত তাকে কোনো চিকিৎসক দেখাতে পারেনি তারা। ততদিনে তিনি কারও সাহায্য ছাড়া উঁঠে দাড়াতে পারতেন না। পরবর্তীতে চিকিৎসার পর হাঁটতে শেখেন জুনরে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

ইস্তান টথ (২৬ ইঞ্চি লম্বা, ৬৫ সেন্টিমিটার)

ইস্তান টথ একজন হাঙ্গেরিয়ান। যার উচ্চতা মাত্র ২৬ ইঞ্চি। ২০১১ সালে তার ৪৮ বছর পরিপূর্ণ হয়। জানলে অবাক হবেন, তার স্ত্রী একজন স্বাভাবিক উচ্চতার নারী এবং তাদের ৩২ বছর বয়সী একজন কন্যা সন্তানও রয়েছেন। পারিবারিকভাবে ইস্তান ও তার পূর্বসূরিরা সর্কাসে কাজ করতেন।

ইস্তান সার্কাসে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট এক বাইকে চড়ে দর্শকদের আনন্দ দিতেন। এভাবে জীবনে সাফল্য আনেন তিনি। উচ্চতা কখনো জীবনে থমকে যাওয়ার কারণ হতে পারে না। ঠিক তেমন উদাহরণ গড়েছেন ইস্তান। তার নিজের একটি ওডি গাড়িও ছিল। ৫০ বছর বয়সে এ ব্যক্তি মারা যান।

 

চন্দ্র বাহাদুর ডাঙ্গি (২১.৫ ইঞ্চি লম্বা, ৫৪.৬ সেন্টিমিটার)

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মানব তিনি। তিনি নেপালের বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। গিনেস বুক অব রেকর্ডের তথ্যানুযায়ী, বামনদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি যিনি ৭৫ বছর বেঁচে ছিলেন। ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

২০১২ সালে নিজ উচ্চতা গুণে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। তখন বিশ্বের সবচেয়ে খাটো মানব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন চন্দ্র। তার পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনজন লম্বায় চার ফুটেরও কম এবং বিাকি দুই ভাই ও দুই বোন স্বাভাবিক উচ্চতার। চন্দ্র পেশায় একজন কৃষক ও কারিগর ছিলেন।

COMMENTS

[gs-fb-comments]