নেপালকে ডেকে এনে হারালো বাংলাদেশ

নেপালকে ডেকে এনে হারালো বাংলাদেশ

অধিনায়ক হিসাবে শুক্রবার আমার শেষ ম্যাচ: মাশরাফি
বিরল রেকর্ড গড়তে চলেছেন টেইলর
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জয়, হ্যাট্রিক করে নেইমারের ইতিহাস

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মাঠের বাইরে ছিল দেশের ফুটবল। দীর্ঘ আট মাসের বিরতি শেষে অবশেষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। মুজিববর্ষ ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ সিরিজের লড়াইয়ে নেপালকে ২-০ গোলে হারিয়েছে

স্বাগতিকরা। দলের হয়ে গোল দুটি করেছেন যথাক্রমে নাবিব নেওয়াজ জীবন ও মাহবুবুর রহমান সুফিল।
লাল-সবুজদের ফিটনেস নিয়ে আগেই গ্যারান্টি দিয়েছিলেন ফিটনেস কোচ ইভান রাজলভ। এছাড়া নেপালের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে প্রস্তুত বলে আগেই জানিয়েছিলেন প্রধান কোচ জেমি ডে।

নিজেদের ফিটনেস লেভেল কতটা তা ম্যাচে ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন জামাল ভূঁইয়ারা। শিষ্যদের জয়ে স্বভাবতই খুশী গুরু জেমি ডে। ম্যাচ শেষে নিজের মুঠোফোনে তুলে নিচ্ছিলেন শিষ্যদের হাসিমাখা মুখ আর নেপালের ফুটবলারদের হতাশার ভিডিও চিত্র।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল ৫টায় ম্যাচটি শুরু হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে স্বাগতিকরা। ইব্রাহিম ও সাদ উদ্দিনদের আক্রমণ রুখতেই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় নেপালের ফুটবলারদের। স্বাগতিকদের তোপে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়ে হিমালয় কন্যার দেশটি।

ম্যাচের ১০ মিনিটে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান জেমির শিষ্যরা। ডান প্রান্ত দিয়ে সাদের বাঁ পায়ের ক্রস জটলা থেকে বক্সে দাঁড়ানো নাবিব নেওয়াজ জীবন টোকা দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন (১-০)। সঙ্গে সঙ্গে সন্ধ্যার নীরবতা খান খান হয়ে ভেঙ্গে পড়ে দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকারে।

অবশ্য আগের মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত স্বাগতিকরা। কিন্তু বিশ্বনাথ ঘোষের লম্বা থ্রোয়ের পর ডি-বক্সের জটলার মধ্যে বল পেয়েও মাথা ছোঁয়াতে পারেননি তপু বর্মন।

২১ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে জীবন ক্রস করলে নেপালের গোলকিপার পাঞ্চ করে ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলে ইব্রাহিমের হেড গোলকিপার রক্ষা করেন কর্ণারের বিনিময়ে। এরপর আরো কয়েকটি জোরালো আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পায়নি জামাল ভুঁইয়ার দল। ফলে এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পর ম্যাচে প্রাধান্য বিস্তার করে খেলতে থাকে নেপাল। তবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি তারা। ৫৮ মিনিটে জীবনকে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পড়িয়ে মাঠ ছাড়েন জামাল ভূঁইয়া। কিছুক্ষণ পর মাঠ ছেড়ে যান অভিষিক্ত স্ট্রাইকার সুমন রেজা। তার বদলি হিসেবে নামেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। মাঠে নেমেই বাজিমাত করেন তিনি।

৮০ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একই বল নিয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক শটে পরাস্ত করেন নেপালের গোলকিপার ও অধিনায়ক কিরন কুমার লিম্বুকে (২-০)। দর্শকদের জোরালো গর্জনে তখনই যেন স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

দুই গোলের লিড পেয়ে আরো উজ্জীবিত হয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। অন্যদিকে নেপাল হয়ে পড়ে ছন্নছাড়া। তবে কোনো দলই আর লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘ সময় পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরাটা জয় দিয়েই রাঙায় লাল

সবুজ শিবির। এই ম্যাচ দিয়েই যেন ২০১৮ সালের সাফ ও গত বছর নেপালে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে হারের বদলা নিল জামাক ভুঁইয়ার দল।

নেপালের বিপক্ষে এই নিয়ে ২০ ম্যাচের মধ্যে ১৩ টিতেই জয় পেল বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচে হারের বিপরীতে ড্র আছে একটি। দুই ম্যাচ সিরিজের পরেরটি খেলতে একই ভেন্যুতে আগামী ১৭ নভেম্বর মুখোমুখি হবে দুই দল।

COMMENTS

[gs-fb-comments]