জ্বলে উঠলেন মাহমুদউল্লাহ, হ্যাটট্রিক জয় খুলনার

জ্বলে উঠলেন মাহমুদউল্লাহ, হ্যাটট্রিক জয় খুলনার

অবশেষে অনুশীলনে যোগ দিলেন তামিম-মোস্তাফিজ
টাকার অভাবে খেলোয়াড় কিনতে পারেনি বার্সেলোনা
আমি তো চুরি করিনি, আত্মসম্মানের প্রশ্ন কেন: মাশরাফি

শুরুটা ভালো করেছিলেন দুই ওপেনার জাকির হাসান ও জহুরুল ইসলাম অমি। তারা ফিরে যাওয়ার পর আশা জাগান ইমরুল কায়েস, পারেননি ইনিংস বড় করতে।

আরও একবার হতাশ করেন সাকিব আল হাসান। ঠিক এ সময়ই জ্বলে উঠলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার দায়িত্বশীল ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টানা তৃতীয় জয় পেল জেমকন খুলনা।

আগে ব্যাট করে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী করেছিল ১৪৫ রান। টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় এ মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা ছিল না খুলনার। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় কঠিন হয়ে যায় এ ম্যাচ। শেষপর্যন্ত মাহমুদউল্লাহর ১৯ বলে ৩১ রানের হার না মানা ইনিংসে ৪ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে খুলনা।

রান তাড়া করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে মাত্র ৩ রান করতে পেরেছিলেন খুলনার দুই ওপেনার জাকির হাসান ও জহুরুল ইসলাম অমি। সাইফউদ্দিনের করা তৃতীয় ওভারে পরপর তিন চার মেরে রানের চাপ সরান জহুরুল। শেখ মেহেদির পরের ওভারে জাকির এক চার মেরে স্ট্রাইক দেন জহুরুলকে। সে ওভারে আরও একটি করে চার-ছক্কা হাঁকান জহুরুল।

পাওয়ার প্লে’তে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪২ রান পায় খুলনা। দলীয় সংগ্রহ ৫০ পার করে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান জাকির। তার ব্যাট থেকে আসে ৩ চারের মারে ২০ বলে ১৯ রান। শুরুর আক্রমণাত্মক ঝাঁজটা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি জহুরুল। তিনি সাজঘরে ফেরেন ১২তম ওভারে, ৬ চার ও ১ ছয়ের মারে ৪০ বলে করেন ৪৩ রান।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সাবলীল খেলছিলেন ইমরুল কায়েস। দৃষ্টিনন্দন তিনটি চারের পর ফাইন লেগে তার ক্যাচ ছেড়ে দেন সাইফউদ্দিন। ঠিক পরের বলেই ছক্কা মারেন ইমরুল। তবে সে ওভারেই তাকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন মুকিদুল মুগ্ধ। সাজঘরে ফেরার আগে ২০ বলে ২৭ রান করেন ইমরুল। আরও একবার হতাশ করেন সাকিব আল হাসান, আউট হন মাত্র ৪ রান করে। তখনও জয়ের জন্য ৩২ বলে ৪৬ রান দরকার ছিল খুলনার।

ইনিংসের ১৬তম ওভারে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরের পথ ধরেন ৪ বলে ৭ রান করা তরুণ শামীম পাটোয়ারিও। এরপর পুরো দায়িত্ব বর্তায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাঁধে।

কিন্তু ফরহাদ রেজার করা ১৭তম ওভারে ৫ রানের বেশি নিতে পারেনি খুলনা। শেখ মেহেদির করা ১৮তম ওভারে এক ছক্কার মারে আসে ১১ রান। ফলে দুই ওভারে বাকি থাকে ২১ রান। শেষ দুই ওভার বোলিং করেন সাইফউদ্দিন ও মুকিদুল মুগ্ধ।

১৯তম ওভার করতে এসে গড়বড় পাকিয়ে ফেলেন সাইফ। ইয়র্কারের খোঁজে একের পর ফুলটস দিতে থাকেন তিনি। তৃতীয় বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে খেলায় নো বল দেননি আম্পায়ার, সে বলে আসে ২ রান। পরের বলটি আবারও করেন কোমড় উচ্চতায়, এবার নো বল ডাকেন আম্পায়ার, স্কুপ শটে বাউন্ডারি মেরে দেন মাহমুদউল্লাহ। পরে ফ্রি হিট বলে বোলারের মাথার ওপর দিয়েন হাঁকান আরেক চার। সেই ওভার থেকেই ১৫ রান তুলে নেয় খুলনা।

ফলে শেষ ওভারে বাকি থাকে মাত্র ৬ রান। মুকিদুল মুগ্ধর বোলিংয়ে যা করতে দুই বল খরচ করেন আরিফুল হক। প্রথম ডেলিভারি ছিল ওয়াইড। পরের বলে হাঁকান বাউন্ডারি এবং দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে নিশ্চিত করেন দলের জয়। খুলনার এটি টানা তৃতীয় জয়। অন্যদিকে এ নিয়ে টানা চারটি ম্যাচ হারল রাজশাহী।

এর আগে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত

সঠিক প্রমাণিত করে দ্বিতীয় ওভারেই উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শুভাগত হোম। রাজশাহীর ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন করেছেন ৪ বলে ১ রান। পরে পাওয়ার প্লে পার করেন নাজমুল শান্ত ও রনি তালুকদার। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে ১৭ বলে ১৪ রান করে সাজঘরে ফিরে যান রনি।

তবে অপরপ্রান্তে ধরে রেখেছিলেন শান্ত। হাত খুলে খেলেছেন শুরু থেকেই। মাত্র ৩৩ বলে পূরণ করেন ব্যক্তিগত ফিফটি। কিন্তু এরপর আর বেশিদূর যেতে পারেননি। মাহমুদউল্লাহর করা ১৩তম ওভারে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েন শামীম হোসেনের হাতে। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ের মারে ৫৫ রান।

আগের ম্যাচগুলোতে ঝড় তুললেও এদিন হতাশ করেছেন শেখ মেহেদি হাসান, ১৫ বল খেলেন করেন মাত্র ৯ রান। শেষ ম্যাচে ঝড়ো ফিফটি করলেও, আজ ৯ বলে ৯ রানের বেশি করতে পারেননি ফজলে রাব্বি মাহমুদ। শেষের ৬ ওভারে আর উইকেট হারায়নি রাজশাহী। নুরুল হাসান সোহান ও জাকের আলি অনিকের জুটিতে আসে ৩৭ বলে ৫২ রান।

যেখানে বড় অবদান ছিল সোহানের। আলআমিন হোসেনের করা ১৯তম ওভারে দুইটি করে চার ও ছক্কায় তুলে নেন ২২

রান। তবে শেষ ওভারে একটি করে বাই ও লেগবাই মিলিয়ে মাত্র ৩ রান খরচ করেন হাসান মাহমুদ। তার ৪ ওভারে আসে মাত্র ১৬ রান। সোহান অপরাজিত থাকেন ২১ বলে ৩৭ রান করে, অনিকের ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ১৫ রান।

COMMENTS

[gs-fb-comments]