স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রোবায়োটিক ডায়েট

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রোবায়োটিক ডায়েট

হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়
ত্বক-চুলের সমস্যায় এক চিমটে মধু
শীতে কমলা লেবু খেতে হবে যে কারণে

প্রোবায়োটিক শব্দের অর্থ জীবনের উন্নয়ন করা। আমাদের শরীরের ভিতরে নানারকম জীবাণু বাস করে। এদের প্রোবায়োটিক বলা হয়। এরা ব্যাকটেরিয়া কিংবা ইস্ট। শরীরের ভিতরে যে সকল জীবাণু থাকে, তাদের সবাই কিন্তু আমাদের ক্ষতি করে না। কিছু জীবাণু আমাদের বন্ধু। সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের শরীরে এসব জীবাণুর উপস্থিতি বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। মূলত পরিপাক নালীতে এসব জীবাণু থাকলে আমাদের নানারকম উপকার হয়। শরীরের ভিতরে আনুমানিক ৪০০ রকমের জীবাণু বাস করে। গড়পড়তা একজন মানুষের শরীরে ৩ থেকে ৪ কেজি আন্ত্রিক জীবাণু থাকে। অর্থাৎ খুব সহজে আন্দাজ করা যায় বিপুলসংখ্যক জীবাণু আমাদের শরীরে বাস করে। অবশ্যই বিনা কারণে এত জীবাণু শরীরে বাস করে না। এরা আমাদের সঙ্গে থাকে কারণ এদের প্রয়োজন রয়েছে।

এধরনের জীবাণু প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করলে আমাদের পরিপাক নালীর কাজকর্ম ভালো থাকে। প্রোবায়োটিক আমাদের অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে; এর ফলে পরিপাক নালীর কাজকর্মই শুধু ভালো হয়, তা নয়। সামগ্রিকভাবে তা শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

প্রোবায়োটিক আমাদের শরীরের জন্য দরকার। পরিপাক নালীর কাজ-কর্ম ভালোভাবে চলার জন্য আমাদের প্রচুর বন্ধু জীবাণু দরকার হয়। এসব বন্ধু জীবাণুই প্রোবায়োটিক। এদের মূল কাজ হলো:
• এরা পরিপাক ক্রিয়াকে উন্নত করে
• বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন তৈরি করে
• বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান নিষ্ক্রিয় করে
• অন্য ক্ষতিকর জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
• ক্ষতিকর জীবাণুর অতিরিক্ত বংশ বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।

দেহে প্রোবায়োটিকের অভাব দেখা দেয় বিভিন্ন কারণে। যেমন:
• এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার
• কোন রোগের কারণে
• অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন
• সুষম খাদ্যের অভাব
• মদ্যপান
• অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার
• ফাস্টফুড গ্রহণ ও কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
• শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিকের প্রভাব

এই কারণগুলোর কারণে শরীরের উপকারী জীবাণুগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এজন্য প্রত্যেকদিন প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিৎ। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার আলোচনা করা হল:

টকদই

প্রোবায়োটিক এর অন্যতম উৎস হচ্ছে টকদই। এতে আছে ল্যাকটোব্যাসিলাস ও বিফিডোব্যক্টেরিয়া। এগুলো অন্ত্রের জন্য খুবই ভালো। এজন্য একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন এক কাপ টক দই খাওয়া উচিত।

আচার

বাঙালির খুব প্রিয় একটা খাবার হচ্ছে আচার। আচারে কিন্তু প্রচুর প্রোবায়োটিক আছে। এটি হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মৌসুমি ফল ও সবজি দিয়ে আমাদের দেশে আচার বানানো হয়। ঘরে তৈরি আচার খাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লবণ এড়িয়ে চলুন।

পনির

পনির খুব ভালো একটি প্রোবায়োটিক। এছাড়াও পনির এ আছে ভিটামিন এ, বি-১২, ফসফরাস,ক্যালসিয়াম, রিবোফ্লাবিন ইত্যাদি। প্রতিদিন সামান্য পনির খান।

সয়া দুধ

সয়াবিন থেকে তৈরি খাবারগুলোতে ল্যাকটোজ থাকে। এগুলো ভালো প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

ডার্ক চকোলেট

ডার্ক চকোলেট একটি ভালো মানের প্রোবায়োটিক। এছাড়াও এতে আছে আন্টিওক্সিডেন্ট ।

COMMENTS

[gs-fb-comments]