এক তরুণীর দুই স্বামী, বিপাকে পরিবার

এক তরুণীর দুই স্বামী, বিপাকে পরিবার

মে’রে ফে’ললে ফেলুক, কা’ফনে’র কা’পড় পরে প্র’স্তুত আছি
বন্যার্তদের খাবার দিচ্ছেন ইউসুফ-ইরফান
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ব্যাপক সংঘ’র্ষ, এলাকা র’ণক্ষেত্র

বিয়ের ৮ মাসের মাথায় পরকীয়া প্রেমের টানে আরেক যুবকের সাথে পালিয়ে যায় সুন্দরী বিথি। এরপর ওই যুবককে বিয়ে করে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রথম স্বামী ও তার পরিবার বিথিকে গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে। গত ৯ মাস আগে দুবাই প্রবাসী সাফায়েত হোসেন এর সাথে উম্মে হানি বিথি (১৮) নামে এক তরুণীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কয়েক মাস পরেই স্ত্রীর কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হলো স্বামী সাফায়েত হোসেন ও তার পরিবারকে।

১ মাস আগে প্রবাসী স্বামীকে রেখে পরকীয়া প্রেমের টানে রাব্বি নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে যান গৃহবধূ বিথি। এরপর ওই যুবককে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে সুদূর পাবনা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় চরম লজ্জাজনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছেন তরুণীর পিতা ও স্বামীর পরিবারের লোকজন।

নোয়াখালী জেলার চাটখিল শহরে এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের মেয়ে উম্মে হানি বিথি (১৮) এর সাথে ৮ মাস আগে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার শামছুল ইসলামের দুবাই প্রবাসী ছেলে সাফায়েত হোসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

বিয়ের মাস খানেক পরে সাফায়েত প্রবাসে চলে যান। এরই মধ্যে মুঠোফোনের মাধ্যমে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বুনাই নগর গ্রামের সেলিম হোসেনের ছেলে ফজলে রাব্বির (২২) সঙ্গে পরিচয় ও প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘ ছয় মাস প্রেমের সম্পর্কের পর ফজলে রাব্বি উম্মে হানি বিথির সঙ্গে দেখা করতে চাটখিলে আসেন। তারপর তারা দুজন পালিয়ে প্রথমে ঢাকা এবং ওই দিনই পাবনার ফরিদপুরে চলে যান। এরপর ৭০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিথির সঙ্গে ফজলে রাব্বির বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা সুখে শান্তিতে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছিলেন। কিন্তু তাতে বাঁধ সাধল পুলিশ।

জিডির সূত্র ধরে ও মুঠোফোনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ ফজলে রাব্বির বাড়িতে গিয়ে হানা দিয়ে বিথি ও ফজলে রাব্বিকে আটক করে চাটখিল থানায় নিয়ে আসে। বিথি ও ফজলে রাব্বি বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। তবে বিথি অভিযোগ করে বলেন, ফজলে রাব্বি মুঠোফোনে বিথির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় তার অজান্তে আপত্তিকর কিছু ছবি তুলে ও ভিডিও কল রেকর্ড করে রাখে। ফজলে রাব্বি ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বিথির সঙ্গে দেখা করে তার সঙ্গে যেতে বাধ্য করে। পরে তাকে মাত্র ৭০ হাজার টাকা দেন মোহরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাকে একাধিকবার রাব্বি মারধর করেছে বলেও জানান।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে ফজলে রাব্বি বলেন, বিথি স্বেচ্ছায় তাদের বাড়ি থেকে চাটখিল এসে আমার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে। বিথি নিজেই তাকে চাটখিল থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলার পর তিনি ঢাকা থেকে চাটখিল এসেছিলেন। চাটখিল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তরুণী গৃহবধু চাটখিল থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ডায়েরি করা হয়। ওই ডায়েরির সূত্র ধরে ও মুঠোফোনের কললিস্ট অনুসরণ করে তাদেরকে পাবনা থেকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কোনো মামলা না হওয়ায় তরুণীকে তার বাবা মার হেফাজতে বুঝিয়ে দিয়েছে এবং ফজলে রাব্বীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

COMMENTS

[gs-fb-comments]