সন্তানের জন্ম দিলেন ১০ বছরের বিবাহিত শিশু, এলাকাজুড়ে তোলপাড়

সন্তানের জন্ম দিলেন ১০ বছরের বিবাহিত শিশু, এলাকাজুড়ে তোলপাড়

প্রেমের টানে কলকাতার তরুণী পিরোজপুরে
ডিসি সাথে ভাইরাল হওয়া সেই নারীর বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে যে ব্যবস্থা
অবশেষে হাসপাতালে মৃ’ত্যু হল ‘জয় শ্রীরাম’ না বলা অ’গ্নিদ’গ্ধ সেই মুসলিম কিশোরের

মাত্র চারদিন হয়েছে পৃথিবীর আলো দেখেছে শি’শুটি। এখনো নাম রাখা হয়নি। এখন পর্যন্ত মায়ের পরিচয়ে পরিচিত সে। তবে অবিশ্বা’স্য হলেও সত্যি সদ্য জন্ম নেয়া এই শি’শুর মায়ের বয়স ১০ বছর। এ ঘটনায় বরগুনার বেতাগী উপজে’লার দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ধ’র্ষণের শিকার হয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে মা হলো শি’শুটি। চারদিন আগে জন্ম নেয়া সন্তানকে কোলে নিয়ে কাঁদছে সে। সন্তানের পিতৃ পরিচয় পাওয়ার জন্য স্থানীয় সালিশদারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে শি’শুটি ও তার পরিবার। ধ’র্ষণের শিকার হওয়ার পর স্থানীয় সালিশদারদের কাছে বার বার গিয়েও ন্যায়বিচার পায়নি শি’শুটি।

রোববার দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামে ওই শি’শুর বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, সন্তান কোলে বসে আছে শি’শুটি। মাঝে মাঝে শি’শুসুলভ আচরণ করছে। কিছুক্ষণ পর পর অঝোরে কেঁদে ওঠে। এরপর সন্তানকে বিছানায় রেখে বাইরে চলে যায় শি’শুটি। নি’র্যাতনের শিকার শি’শু ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, আট থেকে নয় মাস আগে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার শি’শুটিকে ধ’র্ষণ করে বেতাগী উপজে’লার দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের কালাম ব্যাপারীর ছেলে আক্কাস ব্যাপারী (২৫)।

ধ’র্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে শি’শুটিকে হ’ত্যার হুমকি দেয় আক্কাস। প্রায় পাঁচ মাস আগে শি’শুটি অ’সুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শি’শুটি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি স্থানীয় সালিশদারদের জানায় পরিবার। তখন শি’শুটিকে বিয়ের জন্য আক্কাসকে চাপ দেয়া হয়। কিন্তু আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য নির্যাতিত শি’শুটির পরিবারকে প্রস্তাব দেয় স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ অবস্থায় অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শি’শুটির পরিবার।

এদিকে, নির্যাতিত শি’শুটিকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় আক্কাস। এরপর নিরূপায় হয়ে মা’মলা করে শি’শুটির পরিবার। এরই মধ্যে গত বুধবার রাতে ছেলেসন্তানের জন্ম দেয় নির্যাতিত শি’শুটি। নির্যাতিত শি’শুর ভাই বলেন, আমা’র ছোট বোনের সর্বনাশ করেছে আক্কাস ব্যাপারী। ধ’র্ষণে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পারিবারিকভাবে আক্কাসের সঙ্গে আমা’র বোনের বিয়ে দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে অনেক চেষ্টা করেছি আম’রা। স্থানীয় সালিশদারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু আক্কাস আমা’র বোনকে বিয়ে করতে রাজি না হয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় বুধবার আমা’র বোন পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আক্কাস ব্যাপারীর বাবা কালাম ব্যাপারী বলেন, আমা’র সম্মানহানি করার জন্য এলাকার একটি কুচক্রী মহল এসব কথা রটিয়েছে। সেই সঙ্গে ওই মেয়েটির পরিবার আমা’র ছেলের বি’রুদ্ধে মা’মলা করেছে। মা’মলার পর থেকে আমা’র ছেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ওই মেয়েটির সন্তানের বাবা আমা’র ছেলের নয়। তবে হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান বলেছেন, শুরু থেকেই আম’রা বিষয়টি জানি। বিষয়টি সমাধানের জন্য ধ’র্ষণের শিকার মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আক্কাস ব্যাপারীকে বলেছি। কিন্তু এতে আক্কাস রাজি হয়নি। পরে নির্যাতিত শি’শুটির পরিবারটিকে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য বলেছি এবং সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে মা’মলা হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় আক্কাস।

COMMENTS

[gs-fb-comments]