৮ কন্যাসন্তান নিয়ে বিপাকে এক দরিদ্র দম্পতি

৮ কন্যাসন্তান নিয়ে বিপাকে এক দরিদ্র দম্পতি

সেই ঢেলে দেই তাহেরীর বিরুদ্ধে এবার মামলা
দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন করলে চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়
কেটে গেছে নিম্নচাপ, নভেম্বরেই শীতের আগমন

পাঁচ কন্যাসন্তানের পর আরও তিন কন্যাসন্তানের জন্ম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে এক দরিদ্র দম্পতি। সামাজিক যােগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সদ্য জন্ম নেয়া তিন কন্যাকে দত্তক দেয়ার ঘােষণা দিয়েছেন ওই দম্পতির এক আত্মীয়।

সদ্যজাত তিন সন্তানের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও ভালাে নেই তাদের মা। দরিদ্র মা বাড়ির মেঝেতে সন্তানদের নিয়ে দিন-রাত পার করছেন। নিতে পারছেন না সুচিকিৎসাও।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ নওদাপাড়া গ্রামের মৃ;;ত্যু আইয়ুব আলীর বড় মেয়ে ফাতেমার ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙ্গামােড় ইউনিয়নের নগরাজপুর গ্রামের দিনমজুর সাইফুর রহমানের সঙ্গে ২০ বছর আগে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর তাদের সংসারে এক এক করে পাঁচটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। বড় কন্যাকে এক বছর আগ বিয়ে দেন। বাকি চারজনের মধ্যে একজন নবম শ্রেণি, একজন সপ্তম শ্রেণি এবং দুজন শিশু শ্রেণিতে পড়ে। দরিদ্র পরিবারে পাঁচ সন্তান

নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে দিন কাটছে ফাতেমা-সাইফুর দম্পতির। এর মাঝে পুত্রসন্তানের আশায় আবারও গর্ভধারণ করেন ফাতেমা। সন্তান প্রসবের জন্য মায়ের বাড়ি হাসনাবাদের নওদাপাড়ায় আসেন তিনি।

ফাতেমার মা রহিমা বেগম নিজেও একজন দরিদ্র। বাড়ির পাশের হাফেজিয়া মাদরাসায় ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত সােমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে মায়ের বাড়ি তিন কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ফাতেমা। পরিবারের সবাই পুত্রসন্তানের আশা করলেও ফাতেমা একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তান জন্ম দেয়ায় কেউ খুশি হতে পারেনি।

ফাতেমার মামা প্রভাষক মহর আলী জানান, জন্মের পর তিন শিশুর শারীরিক অবস্থা ভালাে থাকলেও ফাতেমার শারীরিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। গত ছয়দিনও বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেনি সে।

তিনি আরও জানান, ফাতেমা এখনও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রয়েছে। কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। চিকিৎসা চলছে। ফাতেমার স্বামী সাইফুর রহমান তিন কন্যাসন্তান হওয়ার খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কারও সঙ্গে ভালাে করে কথা বলছেন না।

মহর আলী আরও জানান, তাদের দরিদ্র সংসার এবং আগের পাঁচ কন্যাসন্তান রয়েছে; তাই সদ্য জন্ম নেয়া তিন কন্যাসন্তানকে দত্তক দেয়ার চিন্তা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছিল। এখন সিদ্ধান্ত বদলানাে হয়েছে। সন্তানদের মা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দত্তক দেয়া হবে না।

কন্যাসন্তানদের বাবা সাইফুর রহমান জানান, আল্লাহ যা করেছে ভালাে হয়েছে। কষ্টের সংসার হলেও তাদের মানুষ করতে হবে।

সাইফুরের প্রতিবেশী বাবুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সাইফুরের বাড়ির ভিটে ছাড়া তেমন জমিজমা নেই। সে কখনও সবজি বিক্রি করে, কখনও দিনমজুরি করে সংসার চালায়। এতগুলাে সন্তানের মুখে খাবার জোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। তার শাশুড়িও দিন এনে দিন খায়। দুই পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এরপর আরও তিন সন্তানের জন্ম হওয়ায় তার (সাইফুর) মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

নাগেশ্বরী উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহম্মদ মাছুম জানান, এ বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। তারপরও খােঁজখবর নিয়ে ওই তিন সন্তানকে দত্তক যেন না দেয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে ওই দম্পতিকে সহযাগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

COMMENTS

[gs-fb-comments]