৭৫ বছর বয়সেও থেমে নেই সুবু

৭৫ বছর বয়সেও থেমে নেই সুবু

ক’য়ে’দির পো’শাকে মিন্নি’র ছবি ফাঁ’স, জ’ড়িত’দের বি’রু’দ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তি দিলেন প্রবাসী-সহ ৮৫৫ বন্দিকে
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম শুরু

আব্দুস সোবহান ওরফে সুবু। গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খঞ্জনা গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী এ ব্যক্তির মাথায় এনজিও’র ৪০ হাজার টাকা ঋণের বোঝা। সেই ঋণ শোধ করতে ৭৫ বছর বয়সেও থেমে নেই সুবু। সকাল-

সন্ধ্যা হাড় ভাঙা পরিশ্রম করেন তিনি। প্রতিদিন সকালে ভাঙেন ইট, সন্ধ্যা হলেই সড়কের পাশে বসে বিক্রি করেন চিতই-ভাপা পিঠা।

৬ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় আব্দুস সোবহান মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে সাত বছর বয়সেই রাইস মিলে কাজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু অভাবের সংসারে মা, ভাই-বোনদের ধরে রাখতে পারেননি। বাবার

রেখে যাওয়া সামান্য জমি বিক্রি করে তারা অন্যত্র চলে যান। টানা ২৭ বছর রাইস মিলে কাজ করেন সুবু। এক সময় সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শুরু করেন ইট ভাঙার কাজ।

অভাব-অনটনের মধ্যেই বিয়ে করেন সুবু। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইট ভেঙে ১৫০-২০০ টাকা আয় হয় তার। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করে আসে ১০০-১৫০ টাকা। এ দিয়েই চলে স্বামী-স্ত্রীর সংসার ও এনজিও’র ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি।

আব্দুস সোবহান ওরফে সুবু বৈবাহিক জীবনে চার মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের বিয়ে হয়ে গেছে। তবে তারা বৃদ্ধ মা-বাবার খোঁজ নেয় না। এ কারনে শেষ বয়সেও সকাল-সন্ধ্যা হাড় ভাঙা পরিশ্রম করতে হয় সুবুকে। তার

ভিটে-মাটি বলতে মাত্র এক কাঠা জমি। বছর দেড়ের আগে বাকি জমি বিক্রি করে এক ছেলেকে সৌদি আরব পাঠিয়েছেন। এরপরই শুরু হয় করোনা। বাড়ির জমিটুকু বর্ষায় তলিয়ে যায়, বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। এ কারণে

একটি এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বিশুদ্ধ পানির পাম্প স্থাপন ও বালি ফেলে বাড়ি উঁচু করেছেন সুবু। প্রতি সপ্তাহে সেই ঋণের কিস্তি হিসেবে দিতে হয় এক হাজার ১০০ টাকা।

আব্দুস সোবহান ওরফে সুবু বলেন, মাথার ওপর ঋণের বোঝা। এই ঋণ পরিশোধের জন্য আমি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইট ভাঙার কাজ করি। আর বিকেলে রাস্তার পাশে বসে পিঠা বিক্রি করি। এ দিয়ে কিস্তি আর দুইজনের সংসার খরচ

চালাতে টানাটানি হয়। কোনোমতে ঋণ শোধ করতে পারলে প্রতিদিনের এ রোজগারে ভালোভাবে সংসার চালাতে পারব।

ছোটবেলা থেকেই অভাবের মাঝে বড় হলেও কারো কাছে হাত পাতেননি আব্দুস সোবহান। ভিক্ষাকে ঘৃণা করেন তিনি। এ কারণে শেষ বয়সেও হাড় ভাঙা পরিশ্রম করতে পিছপা হননি সুবু।

তিনি বলেন, অভাবের কারণে ছোটবেলায় মা, ভাই-বোন আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। নিজের ছেলে-মেয়েরা পর্যন্ত খোঁজ নেয় না। তবু ভিক্ষায় নামিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পরিশ্রম করতে পিছপা হব না।

COMMENTS

[gs-fb-comments]