কিশোরী লোপা হলেন কিশোর আতিকুল!

কিশোরী লোপা হলেন কিশোর আতিকুল!

অবশেষে করোনামুক্ত হলেন রোনালদো
প্রথম স্ত্রী মা’রা যাওয়ার ৯ বছর পর মিষ্টিকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ইমাম
হেফাজতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা জালাল রিমান্ডে

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর গ্রামের আতাউর রহমান ও তার স্ত্রীর ১৩ বছর আগে কোলজুড়ে এক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মা আ’দর করে তার নাম রেখেছিল আতিকা আক্তার লোপা। লোপার ছোটবেলা থেকেই শা’রীরি’ক গঠন বৃ’দ্ধি পেয়ে সে একজন কিশোরী হিসেবেই বড় হতে থাকে।

বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা তাকে মেয়ে হিসেবে দেখে এসেছে। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য সেই আতিকা আক্তার লোপা কিশোরী থেকে পরিবর্তন হয়ে সে এখন একজন কিশোর হিসেবে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকে ব্যাপক চা’ঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়। বর্তমানে মেয়েটি ছেলে হওয়ার পর এখন তার নাম আতিকুল ইসলাম রাখা হয়েছে।

আজ সোমবার (৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,আতিকুলের বাবার মৃ’ত্যু’র পর তাদের পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়ে। জী’বিকার তাগিদে লোপার মা লোপাকে নিয়ে ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন এবং সেখানকার একটি স্কুলেও লোপা ভর্তি হয়। সেখানে ৪র্থ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় লোপার কণ্ঠ ধীরে ধীরে ছেলেদের মতো রূপ নেয়। এ ঘ’টনা তার মা জানার পর থেকেই চি’ন্তিত হয়ে পড়ে।

অসহায় নারী ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় লোপাকে নিয়ে এক বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নেন। এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. বিবাশ বরন বিশ্বাস বলেন, আমরা লোপার কিছু প’রীক্ষা-নি’রীক্ষা করার পর কয়েক সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করি। প্রথম ধাপের অ’পারে’শন করার পর সে অনেকটা সুস্থ হয়।

তিনি আরো বলেন, তবে বাকী দুইটি অপা’রেশন সঠিক সময়ে করতে হবে। তাহলেই সে ছেলে হিসেবে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে চ’লাফেরা করতে পারবে। অপা’রেশন সঠিক সময়ে করতে না পারলে তৃতীয় লিঙ্গে প’রিণত হতে পারে। আতিকুলের মামা মো. হারুন জানায়, অসহায় পরিবার থেকে অনেক কষ্ট করে টাকা পয়সা সংগ্রহ করে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে প্রথম অপা’রেশন করানো হয়েছে।

তবে বাকী দুইটি অপা’রেশন সঠিক সময়ে করার জন্য অনেক টাকা দরকার। ঐ পরিবারের পক্ষে এতো টাকা জোগানো সম্ভব নয়। আতিকুলের দাদী আহেলা বেগম জানান, ছোট বেলা থেকেই মেয়ে হিসেবে বড় করেছি। আল্লাহর রহমত করেছে। এখন মেয়ে থেকে ছেলে হয়েছে। তাই প্রথম ধাপের অপা’রেশন করার পর সে অনেকটা সুস্থ হয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছে।

আসার পরেই সে মেয়ে থেকে ছেলে হওয়ার খবর পেয়ে প্র’তিনিয়ত তার বাড়িতে হাজারও জনতার ভিড় জমে। আতিকুল বলেন,আমি ছোট বেলা থেকেই মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য কান্না করতাম। কিন্তু কেউ আমাকে নামাজ পড়তে নিয়ে যেতো না।

আমি সব সময় একা একা ঘরে বসে আল্লাহর কাছে বলতাম আল্লাহর তুমি আমাকে ছেলে বানায়া দাও আমি মসজিদে নামাজ পড়তে যাব। আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ আমি মেয়ে থেকে ছেলে হয়েছি। আল্লাহ আমার মনের কথা শুনেছে। আজ আমার মনে আসা পূরণ করেছে।

COMMENTS

[gs-fb-comments]