জন্মদিনের কেক নিয়ে এসে বাবা দেখেন ছেলে বেঁচে নেই

জন্মদিনের কেক নিয়ে এসে বাবা দেখেন ছেলে বেঁচে নেই

৬০ হাজার টাকায় ধ’র্ষ’ণের মী’মাংসা ক’রলেন না’রী কাউন্সিলর!
রায়হান হ’ত্যায় আরও যেসব পু’লিশ সদস্য জ’ড়িত বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল আকবর
ফেঁ’সে যাচ্ছেন নিক্সন চৌধুরী,নেয়া হচ্ছে ক’ঠোর ব্যবস্থা !

মুহিন ইসলাম ৮ বছর শেষ করেছেন। শনিবার ছিল তার ৯ম জন্মদিন। বিশেষ এই দিন নিয়ে মুহিনের উচ্ছ্বাস আর প্রস্তুতির শেষ ছিল না। বন্ধুদের দাওয়াত করেছিল। স্বজনদেরও আসার প্রস্তুতি ছিল। মুহিনের বাবা ছেলের বায়না মতো বড় কেক কিনে আনেন। কিন্তু সেই কেক আর কাটা হলো না মুহিনের।

ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া গ্রামের। মুহিন জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা ময়নুল ইসলাম পেশায় কৃষক। মা মণি বেগম গৃহিণী। দুই ছেলের মধ্যে মুহিন বড়।

জন্মদিনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই মুহিন বায়ন ধরেছিল নতুন জামার। বলে আসছিল, ‘বাবা, আমার জন্মদিনে নতুন জামা কিনে দিবা না? কাকে কাকে দাওয়াত দিবা? আমার বন্ধুদের সবাইকে আসতে বলব কিন্তু। বেশি করে বেলুন কিনে আনবা…। আর কেকটা যেন বড় হয়। ’

সন্তানের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে জন্মদিন পালনের জন্য বাবা-মায়েরও ছিল জমকালো প্রস্তুতি। আত্মীয়স্বজন সবাইকে দাওয়াত দেয়া হয়ে গেছে একদিন আগে। বাজার করা হয়ে গেছে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান। তাই বিকাল থেকে স্বজন ও মুহিনের বন্ধুদের পদচারণায় বাড়ি ভরপুর।

ছেলের চাহিদামতো নতুন জামা কিনে এনেছেন বাবা ময়নুল। সব কিছু দেখে মুহিনের সে কী আনন্দ! চারদিকে ছোটাছুটি! আর মুহিনের মা ব্যস্ত রান্নাবান্না ও আত্মীয়স্বজনদের সামলাতে।

মুহিনের চাওয়া অনুয়ায়ী পাশের দোকান থেকে বড় কেক নিয়ে এসেছেন বাবা। ‘হ্যাপি বার্থডে মুহিন’ লেখা কেকটি দেখে মুহিনের বন্ধুরাও বেশ খুশি হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর কেককাটার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কিন্তু মুহিন নেই!

এ-ঘর ও-ঘর সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি। কোথাও নেই মুহিন। চারদিকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে ‘ছেলেধরা’ মুহিনকে ধরে নিয়ে গেছে। প্রতিবেশীদের কেউ একজন এসে জানান, সন্ধ্যায় তিনি মুহিনকে বাড়ির পাশে থাকা গভীর গর্তের দিকে যেতে দেখেছেন।

এ কথা শুনে মুহিনের বাবা-মায়ের চিৎকার। বাবা-মাসহ বাড়ি ভরা অতিথিদের সবাই ছুটলেন সেই গর্তের দিকে। গলাপানির ওই গর্তে নেমে খুঁজে পাওয়া যায় মুহিনকে। মুহিনের নড়াচড়া নেই। দেহ নিথর।

দ্রুত সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, ময়নুলের বাড়ি থেকে ১০০ গজের মধ্যে স্থানীয় কৃষক বাচ্চু মিয়ার আবাদী জমি। এই জমির দুই শতকের মাটি খুঁড়ে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ কারণে সেখানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় ওই গর্তে পানি জমেছে অনেক। প্রতিবেশীদের ধারণা, গর্তের কাছ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে পা ফসকে মুহিন পড়ে ডুবে যায়। এতেই তার মৃ’ত্যু হয়।

রোববার বেলা ১১টার মুহিনের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ছোট্ট ছেলেকে হারিয়ে বিলাপ করছেন মা মণি বেগম। বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমার মুহিন কোথায়? ও তো খায়নি। ডাকো। তাড়াতাড়ি কেকটা কাটো।’

COMMENTS

[gs-fb-comments]